শাবি শিক্ষকের গবেষণা : ক্যান্সার নিরাময়ে হলুদের গুঁড়া
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সময়ে ক্যান্সার সারা বিশ্বে একটি ভয়ানক ব্যাধি। দ্রুত ক্যান্সার সনাক্তকরণ এবং এ থেকে পরিত্রাণের জন্য বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা অনেকাংশে সাফল্য পেলেও তা আশাব্যঞ্জনক নয়।
ক্যান্সার হলে শরীরের আক্রান্ত স্থানসমূহের কোষসমূহ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং টিউমার তৈরি করে যা মানবদেহের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়।
খাবার হলুদের কারকিউমিন থেকে ক্যান্সার রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সোবহান। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন জার্মানির মেগডেবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক টি. এডেলম্যান এবং রসায়ন বিভাগের কিছু ছাত্র।
তিনি বলেন, কারকিউমিন এবং এ থেকে তৈরি নানা যৌগ ক্যান্সার সেলের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া করে তাকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এতে করে ক্যান্সার নিরাময় এবং রোধ করা সম্ভব। ইতোমধ্যে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি তাদের কেমিক্যাল সোসাইটি রিভিউজ পত্রিকায় আমাদের গবেষণা নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
ওই নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘কারকিউমিন যৌগ এবং রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে এদের প্রয়োগ। কাজটি আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ন্যানো লেবেলে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তিনি জানান, আরেকটি মারাত্মক ব্যাধি অ্যালজাইমার যা মানুষের স্মরণ শক্তি কমিয়ে দেয়। এতে মস্তিস্কের নার্ভগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কারকিউমিন এবং এর কিছু যৌগ তাদের বিষয়ে কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে মস্তিস্কের নার্ভগুলোকে প্যানিট্রেট করে রক্ত সরবরাহ করে সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সহয়তা করে।
এজন্য হলুদ হচ্ছে এন্টি এক্রিডেন্ট এবং নিউরো প্রটেকটিভ মেটেরিয়াল। এছাড়া হলুদের কারকিউমিনে রয়েছে অ্যান্টিরিউমেটিক (বাত প্রতিরোধক), অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (জীবাণুনাশক), অ্যান্টিফাঙ্গাল (ফাঙ্গাসরোধক), অ্যান্টিওস্টিওরোপোরোটিক (হাড়ের ক্ষয়রোধক), অ্যান্টিভাইরাল (ভাইরাসনাশক) এবং এইচআইভিরোধক ক্ষমতা। এছাড়া কারকিউমিনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হৃদরোগ নিরাময়কারী উপাদান।
তাছাড়া সারকিউমিনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য কারডিপ্রোডাক্টিভ প্রোপার্টিজ যা হৃদরোগ নিরাময়ে চমৎকার কাজ করে। কারকিউমিনএ ফ্লুরোসেন্ট থাকার কারণে বায়োইমেজিং এর কাজে ব্যবহৃত হয়। এজন্য কারকিউমিন এর যৌগসমূহকে বলা হয় ডিটেক্টিং এবং প্রোটেক্টিং এজেন্ট। যার মাধ্যমে এক সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও নিরাময় করা সম্ভব।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনাণালয়ের সহযোগিতায় ও টোয়াস প্রকল্পের অধীনে শাবি গবেষণা তহবিলের আওতায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার তহবিল পেয়েছেন আবদুস সোবহান। এই তহবিল দিয়ে শাবিতে ন্যানো বায়ো ইমেজিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
গত ২৩ আগস্ট ল্যাবটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়া। যার মাধ্যমে আরো ন্যানো লেবেলে গবেষণা কার্যক্রম চালানো হবে। ল্যাবটির প্রধান পরিদর্শক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক আবদুস সোবহান নিজেই এবং সহযোগী হিসেবে আছেন রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নুর উদ্দিন আহমদ।
তিনি আরো বলেন, এই ল্যাবের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধে শিল্প বর্জ্য এবং পানিকে আর্সেনিক মুক্ত করার জন্যও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অধ্যাপক সোবহান বলেন, এশিয়া অঞ্চলের মানুষ তরকারির সঙ্গে প্রচুর হলুদ খেয়ে থাকেন। এজন্য এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্যনালী অন্ত্র ও কোলন ক্যান্সার তুলনামূলক কম হয়। তাই বলে অতিরিক্ত হলুদ খাওয়া মোটেই সমীচীন নয়। কারণ অতিরিক্ত সারকিউমিন আমাদের শরীর যেমন শোষণ করতে পারে না তেমনি তা ক্ষতির কারণও হতে পারে।
ড. সোবহান আরো বলেন, গবেষণা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা করছি। অন্যরাও চেষ্টা করছেন। আশা করি এ গবেষণায় আমরা সফল হবো। ক্যান্সার আর অ্যালজাইমারস রোধে বিশ্বমানবতার সেবায় নতুন চমকপ্রদ কিছু করার প্রত্যশা ব্যক্ত করেন তিনি।
Related News
ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৩২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে একRead More
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যুRead More



Comments are Closed