বড়লেখায় ধর্ষণে কিশোরীর মৃত্যু
বড়লেখা সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে রাতে চা বাগানের টিলায় নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করেছে দুই নরপশু। রাতভর পাশবিকতার পর ভোরে নরপশু মেয়েটিকে ফেলে যায় বেরেঙ্গা চা বাগের ম্যানেজার বাংলোর উত্তর পাশে।
সকালে রক্তাক্ত ও মূমূর্ষ অবস্থায় মেয়েটির সন্ধান পায় পরিবার। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানা জানি হয়। অর্থ অভাবে ও লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটির ঠিক মতো চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবার। ঘটনার ৭দিন পর (২৪ জুলাই) রবিবার রাতে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটি মৃত্যু বরণ করে।
ন্যক্কারজনক এই ঘটনাটি ঘটে ১৭ জুলাই রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারশাইল এলাকায়।
২৫ জুলাই সোমবার লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়। অসহায় পিতা বড়লেখা থানায় ২ জনের নামে মামলা করেন। মামলা নাং-২৬, তারিখ-২৫/০৭/২০১৬ইং।
মামলার আসামীরা হচ্ছে-উপজেলার কুমারশাইল গ্রামের জহির আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩৫) ও সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার গ্রামের (বর্তমান ঠিকানা কুমারশাইল) গুজা মিয়ার ছেলে আমির উদ্দিন (২৫)।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারশাইল গ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মেয়েটি (১৭) সাথে মামলার ২নং আসামী সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার গ্রামের আমির উদ্দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। (১৭ জুলাই) রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আমির উদ্দিন মেয়েটিকে তার নিজ বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর প্রেমিক আমির উদ্দিন স্থানীয় কুমারশাইল চা-বাগানস্থ হুঙ্গালাটিলায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে একই গ্রামের নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে আমিরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে নিজাম রাতভর মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। ভোররাতে মেয়েটিকে সে বেরেঙ্গা চা বাগের ম্যানেজার বাংলোর উত্তর পাশে ফেলে চলে যায়।
এদিকে নিজাম আমিরকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর প্রেমিক আমির মেয়েটির বাবার মোবাইল ফোনে হুঙ্গালাটিলা থেকে তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য জানায়। অপরিচিত নম্বর থেকে কল পেয়ে বাবা মেয়েটির ঘরে খোঁজ করে দেখেন মেয়ে ঘরে নেই। পরে মেয়েটির বাবা ও ভাই হুঙ্গালাটিলায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেয়েটিকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে পরদিন (১৮ জুলাই) সোমবার সকালে বেরেঙ্গা চা বাগের ম্যানেজার বাংলোর উত্তর পাশে রক্তাক্ত ও মূমূর্ষ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পরিবার। বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে মেয়েটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। মেয়েটিকে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে এ চিন্তায় ও লোকলজ্জার ভয়ে বাবা ডাক্তারকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানাননি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেয়টিকে তারা বাড়ি নিয়ে যান।
বাড়িতে মেয়েটি পরিবারের কাছে সে রাতের ঘটনার বর্ণনা দেয়। (২৩ জুলাই) শনিবার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (২৪ জুলাই) রবিবার রাত ৯টার দিকে মারা যায়। ওই রাতেই মেয়েটির লাশ বড়লেখা থানায় নিয়ে আসেন বাবা। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
বড়লেখা থানায় মেয়েটির বাবা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, টাকার অভাবে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে পারিনি। মান সম্মানের কথা চিন্তা করে স্থানীয় মেম্বার ছাড়া কাউকে প্রথমে ঘটনাটি জানাইনি। আমি এতো অসহায় একদিন কাজ বন্ধ করলে পরিবার দুদিন উপবাস থাকে। আমি আমার মেয়ে হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার মতো আর কোন বাবাকে যেনো মেয়ের মৃত্যু মুখ দেখতে না হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ২জনকে আসামীকে করে মামলা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
Related News
শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্নRead More
আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ প্রায় দুই হাজার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে শিশু হত্যা ও নিখোঁজ সংক্রান্ত অপরাধমূলক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজেরRead More



Comments are Closed