সিলেটে আড়াই কোটি টাকা নিয়ে কোম্পানী উধাও
বিশেষ প্রতিনিধি: গ্রাহকদের কাছ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে সিলেট নগরীর আম্বরখানা সেন্ট্রাল প্লাজায় মৌ-মিতা ভিজনেস সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চড়া সুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহের পর উধাও হয়ে যায় এ প্রতিষ্ঠানটি। দৃশ্যমান এবং নাম-প্যাডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা দেখিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে ৭৫ লক্ষ টাকা। আম্বরখানাস্থ সেন্ট্রাল প্লাজায় এ প্রতিষ্ঠানটিতে এখন ঝুলছে তালা। শুধু গ্রাহকই নয় এতে প্রতারিত হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের অনেক সমিতির সদস্যবৃন্দ ও শেয়ার হোল্ডারও। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী ও কমপক্ষে ৭ জন সঞ্চয়কারী এখন দিশেহারা।
এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে আড়াই হাজার টাকা লভ্যাংশ (সুদ) দেয়ার প্রলোভন দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠাটির মোহনীয় বিজ্ঞাপন ও ঝকঝকে এবং বিলাসবহুল অফিস দেখে যারা আমানত রেখেছেন, তারা এখন শুধু হায় হায় করছেন। আমানতকারীরা অফিসে অফিসে ধরনা দিচ্ছেন নিজেদের পাওনা আদায়ের জন্য। কিন্তু সেখানেও চেয়ারম্যান এমডি কিংবা পরিচালকদের কেউ নেই। ফলে হতাশ হয়ে পথে পথে ঘুরছেন কয়েকজন গ্রাহক ও কর্মচারী।
মৌ-মিতা ভিজনেস সেন্টারের ব্যবস্থাপক ছিলেন তানভির নেওয়াজ চয়ন। তিনি নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রথমে তিনি জানান এই প্রতিষ্ঠানে যারা ব্যবসা করবে তাদের প্রত্যেককে জামানত হিসাবে ২০ লক্ষ ও ৫ লক্ষ টাকা করে জমা দিয়ে ব্যবসায় অংশীদার নিতে হবে। এভাবে প্রাথমিকভাবে ম্যানেজার হিসেবে বিপ্লব চন্দ্র দাস ও প্রধান ক্যাশিয়ার হিসেবে খায়রুল হাসানকে নিয়োগ দেন। এরপর একে একে ৭ কর্মচারীকে নিয়োগ দেন। যারা প্রতিদিন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় গ্রহণ করতেন। আবার যাদের ঋণ দিতেন তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা আদায় করতেন। বেকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, দারিদ্র ও দুস্থ জনগণকে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়াই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য এমন ¯ে¬াগান দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানে ৩৭জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় কয়েক লাখ টাকা আদায় করেন। তানভির নেওয়াজ চয়ন-এর বিরুদ্ধে গ্রাহক ও তার অধীনস্থ কর্মচারী এবং ব্যবসায়ী অংশীদারের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও ব্যাংকের ভুয়া চেক দিয়ে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে।
মৌ-মিতা ভিজনেস সেন্টারের গ্রাহক রনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা এখানে টাকা সঞ্চয় করলে এক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে যাবে এমন প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। আর এ কারণে আমরা এ প্রতারণার ফাঁদে পা দেই।
এ ঘটনায় শুধুমাত্র রনি নন তার মতো প্রায় ১৭ জন গ্রাহক মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট কতোয়ালী থানায় এসে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তানভির নেওয়াজ চয়ন, ম্যানেজার বিপ্লব চন্দ্র দাস ও ক্যাশিয়ার খায়রুল হাসানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মৌ-মিতা ভিজনেস সেন্টারের ম্যানেজার বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায় অংশীদার করার সময় আমাদের ১৭ স্টাফের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে জামানত নিয়েছিল।
এ ব্যাপারে কতোয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, মৌ-মিতা ভিজনেস সেন্টারের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে ওই প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। থানায় অভিযোগ নং ৪১৫/৩১/২০১৬খ্রি।
Related News
রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে সিলিং ফ্যান প্রদান
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের জন্য আরামদায়ক ও অনুকূল শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতেRead More
শাহজালাল মাজারের টাকা দ্বিতীয়বার গণনা হবে ১১ জুলাই
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের হজরত শাহজালাল (রাহ.)-এর মাজারের দানবাক্স, ডেকচি ও চান্দুয়ায়Read More



Comments are Closed