Main Menu

শাবিতে ‘কান ধরে’ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: নারায়ণগঞ্জে সাংসদ সেলিম ওসমান কর্তৃক ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে লাঞ্ছনা করার প্রতিবাদ করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তুমুল বৃষ্টির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবনের সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করে শিক্ষক শ্যামল কান্তির কাছে জাতির পক্ষ থেকে ক্ষমা চান তারা।
এ সময় শিক্ষার্থী জাহাঙ্গির নোমান বলেন, “আমরা যেসব শিক্ষকের কাছে পড়ে মানুষ হয়েছি তাদের অবমাননা দেখা আমাদের পক্ষে চরম অস্বস্তিকর, আমরা ভীষণ লজ্জিত, মর্মাহত। শুধু প্রতিবাদ থেকে নয় স্যারের কাছে ক্ষমা চাইতেই আজ কান ধরে দাঁড়িয়েছিলাম আমরা।
গত ১৩ মে বিকেলে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে নারায়নগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ ও জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান।
ঘটনার তিনদিন পর বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকম নুরুল আমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা পানিসম্পদ কর্মকর্তা।
এই ঘটনায় দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। পুলিশ এই ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে না পাওয়ার কথা বললেও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন-দণ্ডবিধিতে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচির আহবায়ক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাগরিকা চৌধুরী, সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নোমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক আহবায়ক সারোয়ার তুষার, মুশতাক আহমদ, শাহরিয়ার সোহান, খইরুম কামেশ^র ও স্বপন আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় সাগরিকা চৌধুরী বলেন, এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। আমরা মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে শ্যামল কান্তি ভক্ত স্যারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
teacher-ngonjতবে পুরো বিষয়টি ‘পরিকল্পিত’ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। তার দাবি, ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এর আগেও কয়েকবার চেষ্টা করে তাকে পদচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়েই এবার ধর্মের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে।
গত ৮ মে ক্লাশে পড়ানোর সময় এক ছাত্রকে প্রহারের ঘটনার পরেই মূলত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার ওই পরিকল্পা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার শিকার ওই প্রধান শিক্ষক।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করিয়ে সাজা দেওয়া হয়। জনরোষ থেকে ওই শিক্ষককে বাঁচাতে এছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। কারণ পরিস্থিতি তখন এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে বাধ্য হয়েই সেটা করতে হয়েছে।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code