Main Menu

শাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

Manual8 Ad Code

শাবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড এনভারমেণ্টাল সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ মল্লিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানায় বলে জানান নিহতের মামা ভোলানাথ।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের পার্শ¦বর্তী বড়গুল এলাকার সুরমা নীড় নামের একটি মেস থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিশ্বজিতের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। আগামী ৯মে ইকোনোমিক্স নন মেজরের পরীক্ষা আছে বলে জানা যায়।
মেসের সদস্যরা জানান, বিশ্বজিৎ এর রুমের দরজা লাগানো থাকায় অনেক ডাকাডাকির পরও সে দরজা খুলেনি। এক পর্যায়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে অবগত করা হয়।
পরে পুলিশ এসে রুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ সহ জালালাবাদ থানা পুলিশ উপস্থিত হন।
অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার বলেন, ঠিক কি কারণে এমন করুণ মৃত্যু হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।
জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Manual8 Ad Code

এদিকে শনিবার রাতে বিশ্বজিৎ মল্লিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর তাঁর লেখা একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে পুলিশ।
ফরেস্ট্রি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বিশ্বজিৎ মল্লিক আত্মহত্যার আগে এই নোট লিখে যান ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বজিতের সুইসাইড নোটটি ‘প্রথম কথা’ দিয়ে শুরু হয়ে ‘পঞ্চম কথা’ পর্যন্ত লিখে তারপর ‘সর্বশেষ কথা’ বলে একটি পয়েন্টে তিনি লিখেছেন
‘আমাদের প্রথম বাড়ি আমাদের পরিবার, দ্বিতীয় বাড়ি আমাদের স্কুল এবং তৃতীয় বাড়ি আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ৪-৫ বছর একসাথে থাকবেন, একটু হলেও সবার সাথে মিলেমিশে সুন্দরভাবে থাকার চেষ্টা করুন। ৪-৫ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর হয়ত বা কারো সাথে কখনো দেখা হবে না। শুধু শুধু ঝগড়া, হিংসা করে আপনার লাভটা কী? সে যাবে তার পথে, আপনি যাবেন আপনার পথে। মৈত্রী তৈরি করুন, আশা করি সবাই ভাল থাকবেন।’
বিশ্বজিতের সুইসাইড নোটে ‘প্রথম কথায়’ একে অন্যের প্রেমিকাকে নিয়ে আড়ালে কটু কথা না বলার আহবান করা হয়, দোষ-ত্রুটি থাকলে সামনা সামনি বলার কথা লিখেন বিশ্বজিৎ।
‘দ্বিতীয় কথা’ পয়েন্টেও প্রেমিকা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে। যেখানে, যাদের প্রেমিকা আছে তারা যেন অপরের প্রেমিকা নিয়ে মাথা না ঘামান।
‘তৃতীয় কথা’ পয়েন্টে লেখা হয়েছে, ‘বন্ধুত্ব নষ্ট হয়েছে তাই বলে একটু মার্জিত মন্তব্য করা উচিত নয় কি?’
‘চতুর্থ কথা’ পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়, ‘কিছু কিছু বন্ধু আছেন যারা নিজেদের বন্ধুর ব্যপারে একটু বেশিই নাক গলান। নাকটা কম গলাবেন। অতিরিক্ত নাক গলানো তাঁর যেমন পছন্দ নয়, তেমনি আপনারও নয় মনে রাখবেন।’
এবং ‘পঞ্চম কথা’ পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়, ‘যেসব বন্ধু আপনাদের সাথে তকম মেশে তাকে নিয়ে মজা করতে আপনার খুবই ভাল লাগে। কিন্তু যাকে নিয়ে মজা করছেন তার ভাল লাগে না। বরং তাকে নিয়ে মজা না করে, কেন সে আপনাদের সাথে কম মিশছে বা আপনাদের সাথে কয়েকদিন মেশার পর কেন এড়িয়ে যাচ্ছে তা বের তো করবেনই না, উল্টো তাকে লুথা বলবেন। সমস্যা দু’জনেরই আছে শুধু যে বন্ধুটি আপনার সাথে কম মিশেছে তাকে একা দোষ দেবেন না।’
বিশ্বজিতের বন্ধুরা জানান, শনিবার দুপুরে অন্য বর্ডাররা মেস থেকে বেরিয়ে গেলে বিশ্বজিৎ একাই সেখানে ছিলেন। রাতে বন্ধুরা মেসে ফিরে অনেক ডাকাডাকি করলেও বিশ্বজিৎ কোনো সাড়া দেননি। পরে তাঁরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিশ্বজিতকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। রাত ১২ টার দিকে প্রক্টরের উপস্থিতিতে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে বিশ্বজিতের লাশ নামিয়ে আনে।
বিশ্বজিতের বন্ধুরা জানিয়েছেন, বিশ্বজিৎ কিছুদিন ধরেই বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন।

Manual5 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code