গোলাপগঞ্জে ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ প্রবাসীর
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী আব্দুল আওয়াল পাভেল। তিনি দাবি করেছেন, পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই ভাইকে যুক্তরাজ্যে হেলথ কেয়ার ভিসায় পাঠানোর কথা বলে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের গৌরাবাড়ি গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র আব্দুল আওয়াল পাভেল।
লিখিত বক্তব্যে পাভেল বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ডেপুটি বাজার এলাকার কাটাখালপাড় গ্রামের ময়মনুল হক তার খালু। তার খালাতো ভাই কয়েছ আহমদের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ওরফে কলি বেগমের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, তার দুই ভাইকে যুক্তরাজ্যে হেলথ কেয়ার ভিসায় পাঠানোর কথা বলে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কয়েক দফায় ৬০ লাখ টাকা নেওয়া ও মানব পাচারের অভিযোগে তার বাবা আব্দুল আহাদ একটি মামলা করেছেন।
পাভেলের দাবি, ওই মামলায় জটিলতা তৈরি হওয়ার পর তাকে চাপ ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে কথিত ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ১৯ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির বাদী তার খালাতো ভাই কয়েছ আহমদের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ওরফে কলি বেগম। মামলাটি তদন্ত করছেন গোলাপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ। এর আগে একই বাদী ২৪ জুলাই তার ও তার আরও তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগে গোলাপগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা করেন। তার ভাষ্য, দুটি মামলার মধ্যে ব্যবধান মাত্র ২৫ দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, কথিত ধর্ষণচেষ্টা মামলার এজাহারে ঘটনার সময় গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টা উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে তিনি গোলাপগঞ্জ থানায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তার পরিবারের অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আবু সাঈদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় তদন্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা একটি এক্স নোহা গাড়ি ও দুটি ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশাযোগে ভাদেশ্বর বাজার এলাকায় যান। সেখানে নাস্তা করার পর তারা অভিযুক্তের বাড়ির দিকে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ থানায় ফিরে আসেন।
পাভেল আরও বলেন, পরবর্তীতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ র্যাব-৯-এর সহযোগিতা চায়। এরপর গত ১৬ আগস্ট র্যাব-৯-এর মাধ্যমে তার মামলার ৪নং আসামি কয়েছ আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্থান্তর করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে কয়েছ আহমদ কারাগারে রয়েছেন এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারই কথিত ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তিনি জানান, গত ২১ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আবু সাঈদ তাকে থানায় ডেকে মামলার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি নেন। জবানবন্দি শেষে তাকে একটি কাগজ দেখিয়ে তার নামেও মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাভেলের দাবি, ওই মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে থানায় আটক রেখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে টিকরবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আওয়াল পাভেল অভিযোগ করেন, তিনি একজন প্রবাসী হওয়ায় তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুলিশ দুটি পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা সাজিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, তার পরিবারের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা ৬০ লাখ টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
Related News
গোলাপগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল গ্রেপ্তার
Manual1 Ad Code গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয়Read More
গোলাপগঞ্জে ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ প্রবাসীর
Manual4 Ad Code গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদRead More



Comments are Closed