Main Menu

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন ২,৫৭৮ বাংলাদেশি

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ২ হাজার ৫৭৮ বাংলাদেশি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই আবেদনকারীদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এবং ১ হাজার ৯৫ জন দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আশ্রয় চেয়েছেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৯ জন ছিলেন মূল আবেদনকারী এবং ৯২৯ জন নির্ভরশীল সদস্য। মোট আবেদনকারীর প্রায় ৬৪ শতাংশ মূল আবেদনকারী, আর ৩৬ শতাংশ নির্ভরশীল।

Manual2 Ad Code

প্রথম প্রান্তিকে মূল আবেদনকারী ছিলেন ৯৪৬ জন এবং নির্ভরশীল ৫৩৭ জন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৭০৩ ও ৩৯২ জনে। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল আবেদনকারী ২৪৩ জন বা ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নির্ভরশীল ১৪৫ জন বা ২৭ শতাংশ কমেছেন।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, আশ্রয়ের আবেদন বলতে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থায় প্রবেশ করাকে বোঝায়। পরিবারের সদস্যরা নির্ভরশীল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলে একটি আবেদনের আওতায় একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তবে পরিসংখ্যানে মূল আবেদনকারী ও নির্ভরশীল—দুই পক্ষকেই আলাদা ব্যক্তি হিসেবে গণনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বয়সভিত্তিক গোষ্ঠী ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা। প্রথম ছয় মাসে এ বয়সের ১ হাজার ১৪৪ জন আশ্রয় চেয়েছেন, যা মোটের ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

এরপর রয়েছে ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৮৩১ জন, যা মোটের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আবেদনকারীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৯৭৫ জন, যা মোট বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকে ৬৫৯ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমে ৪৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৪৭৩ থেকে কমে ৩৫৮ জন হয়েছে।

এ ছাড়া ১৭ বছর বা তার কম বয়সী ৫৫৪ জন বাংলাদেশি আশ্রয় চেয়েছেন, যা মোটের প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ছিলেন ৩৮ জন এবং ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন ১১ জন।

আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। মোট ২ হাজার ৫৭৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫২৭ জন, অর্থাৎ ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। নারী ছিলেন ১ হাজার ৫১ জন বা ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রথম প্রান্তিকে ৮৯৪ জন পুরুষ ও ৫৮৯ জন নারী আশ্রয়ের আবেদন করেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬৩৩ ও ৪৬২ জনে।

দুই প্রান্তিকের তুলনায় পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা ২৬১ জন বা ২৯ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। নারীদের ক্ষেত্রে কমেছে ১২৭ জন বা ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

১৭ বছর বা তার কম বয়সী ৫৫৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র চারজন ছিলেন মূল আবেদনকারী। বাকি ৫৫০ জনই ছিলেন নির্ভরশীল।

প্রথম প্রান্তিকে এই বয়সী ৩২২ জনের মধ্যে ৩২০ জন ছিলেন নির্ভরশীল এবং দুজন মূল আবেদনকারী। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৩২ জনের মধ্যে ২৩০ জন নির্ভরশীল ও দুজন মূল আবেদনকারী ছিলেন।

অন্যদিকে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে দুই প্রান্তিকে মূল আবেদনকারী ছিলেন ৯৫৪ জন এবং নির্ভরশীল ১৯০ জন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মূল আবেদনকারী ছিলেন ৬৫০ জন এবং নির্ভরশীল ১৮১ জন।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় সবাই যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর দেশটির ভেতর থেকেই আবেদন করেছেন। প্রথম ছয় মাসে মোট ২ হাজার ৫৭৮ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৫৪ জন দেশটির ভেতর থেকে আবেদন করেন। আর যুক্তরাজ্যের কোনো প্রবেশবন্দর থেকে আবেদন করেন ২৪ জন।

Manual4 Ad Code

প্রথম প্রান্তিকে বন্দরে আবেদন করেন ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করেন ১ হাজার ৪৬৫ জন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বন্দরে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ছয়জন এবং দেশের ভেতর থেকে আবেদন করেন ১ হাজার ৮৯ জন।

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিলেন সাধারণ শ্রেণির আবেদনকারী। প্রথম প্রান্তিকে কোনো ‘আনঅ্যাকম্পানিড অ্যাসাইলাম-সিকিং চাইল্ড’ (UASC) রেকর্ড করা হয়নি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে একজন UASC রেকর্ড করা হয়েছে।

ওই আবেদনকারী ছিলেন ১৭ বছর বা তার কম বয়সী একজন পুরুষ এবং তিনি যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করেন। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, UASC হলো এমন শিশু, যে কোনো অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক ছাড়া যুক্তরাজ্যে আসে।

এদিকে, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ ছয় দেশের মধ্যে রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান, ইরিত্রিয়া, ইরান, সুদান ও আফগানিস্তান। এই ছয় দেশের নাগরিক মিলে ওই সময়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাওয়া মোট মানুষের ৪৬ শতাংশ।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code