বজ্রপাতে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে ছাতকে লাফার্জহোলসিমের মাস ব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর প্রাক বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন দেশের ৩ হাজার ৬৫৮ জন মানুষ। শুধু ২০২৫ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৩ জন। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মাত্র ৪৮ ঘন্টায় সারাদেশে বজ্রপাতে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মোতাবেক দেশের সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় সুনামগঞ্জে । মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসে বজ্রপাতের পরিমান বেশি থাকে।
এই দুর্যোগ নিয়ে ছাতকের সাধারন মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে এগিয়ে এসেছে সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি। আজ (৪ মে) প্রতিষ্ঠানটির সুরমা প্ল্যান্টের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বজ্রপাতের সময় কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে উন্মুক্ত স্থান সবেচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তাই যত দ্রুত সম্ভব উন্মুক্ত স্থান পরিত্যাগ করতে হবে; পানির সংস্পর্শ পরিত্যাগ করতে হবে অর্থাৎ বজ্রপাতের সময় গোসল না করা, থালা বাসন না ধোয়া ইত্যাদি; নদীর মাঝে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তীরে পৌঁছাতে হবে; বিচ্ছিন্ন এবং লম্বাকৃতির যে কোন বস্তুর নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না যেমন গাছ, বৈদ্যুতিক পিলার ইত্যাদি কেননা বজ্রপাত প্রথমেই এই ধরনের বস্তুকে লক্ষ্য করে। অনুষ্ঠানে আরো বলা হয় ঘরের ভিতরে থাকাই নিরাপদ এবং বজ্রপাতের সময় হাত দিয়ে কান ঢেকে রাখতে হবে যাতে শব্দ কম শোনা যায় তবে ঘরের মেঝেতে শোয়া যাবে না; দরজা, জানালা, বারান্দার কাছে যাওয়া যাবে না; তারযুক্ত ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যাবহার করা যাবে না এবং বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট বাহিরে না যাওয়াই শ্রেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ইনভায়ারনমেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, ডিজিএম হেলথ অ্যান্ড সেফটি শহীদুর রহমান, ডেপুটি ম্যানেজার সিএসআর ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট লায়লা পারভীন হিমেল এবং ডেপুটি ম্যাানেজর হেলথ অ্যান্ড সেফটি অশোক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
লাফার্জহোলসিম এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পুরো মে মাস জুড়েই চলবে এবং সুরমা প্ল্যান্টের পাশ্ববর্তী প্রায় ৪০টি গ্রামে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সচেতনতামূলক এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ছাতকের টেঙ্গারগাও গ্রামের রোশনা বেগম বলেন, “বজ্রপাতের সময় কী করা উচিৎ তা আমরা জানতাম না। আজকে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আমি বজ্রপাতের সময় কী করতে হবে তা জানতে পেরেছি। আমি এ বিষয়ে আমার পরিবারের সকলকে জানাবো যাতে বজ্রপাতের সময় আমরা নিরাপদ থাকতে পারি।”
Related News
ছাতকে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৫
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালক ও একই পরিবারেরRead More
বজ্রপাতে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে ছাতকে লাফার্জহোলসিমের মাস ব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর প্রাক বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতেRead More



Comments are Closed