সিলেটের এক্সেলসিয়র হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে হামলা ভাঙচুর
ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটের খাদিমপাড়া এলাকায় ‘এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ (সাবেক জাকারিয়া সিটি)-এ গত শুক্রবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মালিকানা দ্বন্দ্ব থেকেই রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) এই রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষই পরষ্পরের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে। পুলিশ বলছে, এই রিসোর্টের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।
জানা যায়, সিলেটের খ্যাতিমান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়াত জাকরারিয়া আহমদ নির্মিত এই রিসোর্টটি কিনে নেন প্রবাসী একদল উদ্যোক্তা। প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা কেনার পর ‘জাকারিয়া সিটি’ নাম পাল্টে নতুন নাম রাখা হয় ‘‘এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’।
তবে নতুন উদ্যোক্তাদের হাতে যাওয়ার পর এই রিসোর্টের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বর্তমানে এই রিসোর্টের পরিচালানার দায়িত্বে রয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না। তার দাবি, প্রবাসী মালিকদের কাছ থেকে রিসোর্টটি তিনি ভাড়া এনেছেন।
রাহাত চৌধুরী পক্ষের অভিযোগ, রিসোর্টের পূর্বের কর্মী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গত শুক্রবার রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এমন অভিযোগ করে এক্সেলসিয়র সিলেট রিসোর্ট’র একাউন্টস ম্যানেজার জাহেদ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক লোক হামলা চালায়। তারা আমাকে ও রিসোর্টের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে ও রিসোর্টের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তারা প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এই রিসোর্টের মালিকরা প্রবাসে থাকেন। আমরা তাদের কাছ থেকে ভাড়া এনে এটি পরিচালনা করছি। রিসোর্টটি দখলের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও দীর্ঘদিন এ রিসোর্টে চাকরি করেছেন।
এ ব্যাপারে ৩ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, রিসোর্টের মালিকরা প্রবাসে থাকেন। এই সুযোগে গত জানুয়ারিতে কিছু লোক রিসোর্টটি দখল করে নেয়। আমি মালিকদের অনুরোধে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে রিসোর্টটি পুণরুদ্ধারে গিয়েছিলাম।
হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছি। আমি কেন হামলা ও ভাঙচুর করবো? নিজেদের জিনিস কী কেউ ভাঙচুর করে।
তার অভিযোগ, রিসোর্টের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরতরাই হামলা ও ভাঙচুর করে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে।
মালিকদের কাছ থেকে রিসোর্ট ভাড়া নেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা এরকম দাবি করলেও কোন কাগজ দেখাতে পারেননি।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে শহিদুলের রিসোর্টে যাওয়ার দাবি প্রসঙ্গে রিসোর্ট’র একাউন্টস ম্যানেজার জাহেদ আহমদ বলেন, মালিকপক্ষের লোক হলে ভাঙচুর ও লুট করবে কেন?
তিনি বলেন, শহিদুল এখানকার সিকিরিউটি শাখায় কর্মরত ছিলেন। এরআগেও একাধিকবার তিনি রিসোর্টে হামলা চালিয়েছেন।
এদিকে, রিসোর্টে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগে শাহপরান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগটি এখনও মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেও হামলাকারীদের দমানো বা আটকের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আগামি শুক্রবার রিসোর্টর প্রবাসি মালিকরা ভার্চ্যুয়ালি সভা করে সিদ্ধান্ত দেবেন কে বা কারা প্রতিষ্ঠান চালাবেন। আমরা সেই অপেক্ষা করছি। সেজন্য মামলার বিষয়টি অগ্রগতি হয়নি।
Related News
সিসিকের সাবেক প্রশাসক রেজা উন-নবীসহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশ
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং সিলেটের সাবেক বিভাগীয়Read More
সিলেটে আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের বানাগাঁওয়ে প্রবাসীRead More



Comments are Closed