কুয়ালালামপুরে মদ্যপ চালকের গাড়িচাপায় হবিগঞ্জের মুজাহিদ নিহত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি দম্পতি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের যাত্রা রূপ নেয় শোকাবহ ঘটনায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এক চালক তাদের বহনকারী ই-হেইলিং গাড়িকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ২২ বছর বয়সী মুজাহিদ মিল্লাদ। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী নাফিসা তাবাসসুম আদিবা (২৩), যিনি বর্তমানে কুয়ালালামপুর হাসপাতাল -এ চিকিৎসাধীন। তার পায়ে ভাঙন ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী এক সেনাসদস্য, যিনি দুর্ঘটনার সময় মদ্যপ ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করা হয়। তার গাড়িতে থাকা আরেক নারী যাত্রীও আহত হয়েছেন, তবে চালক সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
নিহত মুজাহিদ ও তার স্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের কোনো সন্তান নেই। এটি ছিল তাদের দ্বিতীয়বার মালয়েশিয়া ভ্রমণ।
আহত নাফিসার চাচা, জোহর বারুতে কর্মরত মোহিবুল হাসান জানান, ভোরে পরিবারের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি বলেন, তারা শুধু বেড়াতে এসেছিল। তারা পর্যটক ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন মদ্যপ ব্যক্তি কেন গাড়ি চালাবে? মাতালদের বাড়িতেই থাকা উচিত। মালয়েশিয়ার আইন এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
এদিকে নিহতের চাচাতো ভাই আলমগীর জানান, দম্পতি এক সপ্তাহের জন্য কুয়ালালামপুরে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে এসে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মরদেহ দেশে নিয়ে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানায়, ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে মাজু এক্সপ্রেসওয়ের ১.৯ কিলোমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সালাক সেলাতান থেকে জালান তুন রাজাকমুখী সড়কে চলার সময় অভিযুক্তের চালানো ফোর্ড ফিয়েস্তা গাড়িটি বিপরীত লেনে উঠে একটি পেরোদুয়া আলজা গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যা ই-হেইলিং হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ই-হেইলিং গাড়ির চালক মাথায় আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত সবাইকে কুয়ালালামপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগ বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহদ জামজুরি মোহদ ইসা জানান, অভিযুক্ত চালকের ব্রেথালাইজার পরীক্ষায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। তবে মাদক পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
ঘটনাটি ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪৪(১) ধারায় তদন্তাধীন রয়েছে, যেখানে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ ঘটালে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Related News
কানাডায় সিলেটের তরুন উদ্যোক্তা শরীফ খুন, ২ জনের সাজা
Manual4 Ad Code প্রবাস ডেস্ক: কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ওয়েন সাউন্ড শহরে সিলেটের তরুণ উদ্যোক্তা শরীফRead More
নেপালে ১৫ বাংলাদেশি আটক
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের আদলে অনলাইন প্রতারণা বা ‘স্ক্যাম সেন্টার’ পরিচালনারRead More



Comments are Closed