Main Menu

মালয়েশিয়ার বন্দিশিবির ও জেলে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি

Manual8 Ad Code

প্রবাস ডেস্ক: মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দিশিবির (ডিটেনশন ক্যাম্প) ও কারাগারে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি আটক ও সাজাভোগ করছেন। এর মধ্যে দেশটির ১২টি বন্দিশিবিরে রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা খাটছেন আরও প্রায় ১ হাজার ৬শ’ জন। অধিকাংশই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জোরদার হওয়ায় বাংলাদেশিদের আটক হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে সাগরপথে অনুপ্রবেশ এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এর ফলে বন্দিশিবির ও কারাগারগুলোতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মূলত মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯-এর ধারা ৬(১)(সি), ১৫(১)(সি) এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর ১২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার ক্লুয়াং, সুগাই বুলোহ, পেংকেলান চেপা, আলোর সেতার, তাইপিং, মারাং, তাপাহ, সেরেমবান, কাজাং, পেনর, পেনাং, বেনটং, মিরি, কেমুনটিং, পোখোসেনা ও সিবুসহ বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ১ হাজার ৬শ’ বাংলাদেশি সাজাভোগ করছেন। তাঁদের বেশির ভাগই অভিবাসন আইন ও পাসপোর্ট আইন ভঙ্গের দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া মাদক কেনাবেচা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জেলিবু অ্যান্টি-ড্রাগ কারাগারেও কয়েকজন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Manual5 Ad Code

সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে বন্দিশিবিরে নেওয়া হয়। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সেখানেই থাকতে হয়। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাজা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। আবার সাজা শেষে দেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্তও বন্দিশিবিরে রাখা হয়। এ কারণে ক্যাম্পগুলোতে সব সময় বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক অবস্থান করেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ও পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে দুই থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত যেকোনো মেয়াদের সাজা দিতে পারেন।

Manual4 Ad Code

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে কারাগার ও ক্যাম্পে থাকা বিদেশিদের বড় অংশই অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন অথবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন বসবাস করছিলেন। নিয়মিত অভিযানে তাঁদের আটক করা হচ্ছে।

এদিকে যেসব বাংলাদেশির সাজা শেষ হয়েছে এবং আদালত দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, তাঁদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার বাংলাদেশিকে সাজা ও আটকাদেশ শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Manual1 Ad Code

তবে বন্দিশিবির ও কারাগার থেকে দেশে ফেরা অনেক বাংলাদেশি অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পগুলোতে তাঁদের মানবেতর পরিবেশে থাকতে হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার দীর্ঘ সময় ধরে বন্দিশিবিরে থাকলেও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন বন্দিশিবির ও কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে হাইকমিশন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। কর্মকর্তারা নিয়মিত ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তাঁদের ট্রাভেল পারমিট দিয়ে দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Manual1 Ad Code

প্রবাসীরা বলছেন, অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আসা কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে শুধু কারাদণ্ড নয়, দীর্ঘ সময় বন্দিশিবিরে মানবেতর জীবন কাটানোর ঝুঁকিও থাকে। তাই বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে মালয়েশিয়ায় না আসাই শ্রেয়।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code