Main Menu

ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে স্বপ্নের অগ্রযাত্রা সেতুর উদ্বোধন

Manual7 Ad Code

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গাংপাড় নয়াকুট গ্রামে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে তরুন সমাজ সেবক ও উদ্যোক্তা কামরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে তারা নির্মাণ করছেন লোহার পাইপ ও কাঠের সমন্বয়ে একটি নতুন সেতু স্বপ্নের অগ্রযাত্রা।

Manual6 Ad Code

সোনাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন এ সেতুটি শুধু দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে শিক্ষা প্রশারে আরেকটি মানবিক গল্প।

স্থানীয়রা জানান, নদী পার হয়ে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ।

কয়েক বছর আগে নির্মিত একটি অস্থায়ী সেতু ভেঙে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে স্কুল- কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এ অবস্থায় কামরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গ্রামের সচেতন যুবক ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে ঐ কমিটির কাছে নদীর দুপারের ১৯ জন ব্যক্তি ১৯ লক্ষ টাকা কমিটির কাছে আর্থিক সহায়তা হিসেবে হস্তান্তর করেন। এরপরই লোহার পাইপ সংগ্রহ করে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। বর্তমানে কাঠ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে যা আজ উদ্বোধন হয়েছে।

Manual8 Ad Code

গ্রামের বাসিন্দা সেতুর উদ্যোক্তা ও সম্ভাব্য ১ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম বলেন,“এটি শুধু একটি সেতু নয়, দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করেছি, যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমে।” এছাড়াও এই সেতুটির নির্মান শেষ করে আজ আমরা উদ্বোধন করেছি। স্থানীয় মুরব্বিরা এই অগ্রযাত্রা সেতুটি ৭ জুন রবিবার বিকাল ৩টায় উদ্বোধন করেন মোনাজাতের মাধ্যমে।

এই সেতুর লিজ থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে সেই অর্থের টাকা নোয়াকুট বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুদান দেওয়া হবে, স্কুলটি পরিচালনার জন্য।

Manual6 Ad Code

আরেক বাসিন্দা মনিরুজ্জামান সান্টুল জানান, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানবিক এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে দ্রুত একটি টেকসই ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে। যাদের মহতি উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই স্টিলের ব্রিজ নিমিত হয়েছে তারা হলেন:-হাজী সোনা মিয়া, হাজী মানিক মিয়া, তাজুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, সিরাজ উদ্দীন খান, কামরুজ্জামান, মনির খান, আব্দুল মছব্বির, শফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান (মাস্টার), আব্দুল মনাফ (মাস্টার), আজাদ মিয়া (মাস্টার), নজরুল ইসলাম ( ব্যবসায়ি), আল আমিন খান, সফিক খান, মোঃ কামরুল ইসলাম, ডা.জহিরুল ইসলাম বিল্লাল, রিয়াজ উদ্দীন খান, আফাজ উদ্দীন, হাসান আহমদ মঙ্গল ও শিব্বির আহমদ।

উদ্বোধনী অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মুরব্বী ও সালিশ ব্যক্তিত্ব মাওলানা শিব্বির রআহমদ, জিয়াদ আলী চেয়ারম্যান, তাজ উদ্দিন আহমদ (সাবেক মেম্বার), আব্দুল জব্বার খোকন, মানিক মিয়া, নতুন জালিয়ার পাড়ের আসাদ মিয়া, ইয়াছিন আলী, আলতাব মিয়া, আব্দুন নূর ও নুরুজ্জামান জামাল প্রমূখ।-বিজ্ঞপ্তি

Manual5 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code