Main Menu

দেশের ৫ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুধু সুনামগঞ্জেই ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় ৫ জন, রংপুরের মিঠাপুকুরে ২ জন, নেত্রকোণার আটপাড়ায় ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং হবিগঞ্জে ১ জন নিহত হন।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাইয়ে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কাছে পাগনার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন নূর জামাল (২৬), মৃত রমজান আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৫০) এবং জালাল উদ্দীনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২২)। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে এতে নূর জামাল ও তোফাজ্জল হোসেন আহত হন।

Manual1 Ad Code

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফাজ্জল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ধর্মপাশা উপজেলা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই সময়ে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে চকিয়াচানপুর গ্রামের কাছে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) নামে এক কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এদিকে, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের কাছে বজ্রপাতে জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫) এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জয়নাল হক ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তাহিরপুর উপজেলা: বজ্রপাতে আবুল কালাম (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত আবুল কালাম তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। আহত নূর মোহাম্মদ (২২) বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের আলী আওয়ালের ছেলে।

শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের মধ্যে বজ্রপাত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম ও নূর মোহাম্মদ মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামার দেখাশোনা করতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তারা হাওরে হাঁস চরাতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল কালামের মৃত্যু হয় এবং নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহত নূর মোহাম্মদকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Manual3 Ad Code

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফয়েজ আহমদ নুরী জানান, নূর মোহাম্মদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

দিরাই উপজেলা: এদিকে দিরাই উপজেলার কালীয়াগোটা হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটছিলেন পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম. এ. হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নেত্রকোণা: নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার মেষির হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

Manual2 Ad Code

হবিগঞ্জ: শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের মমিনা হাওরে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত সুনাম উদ্দিন একই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্গা নেওয়া বোরো জমিতে ছেলে নুরুজ্জামান মিয়াকে (২৫)সাথে নিয়ে ধান কাটছিলেন সুনাম উদ্দিন।

কাটা ধান ছেলেকে দিয়ে বাড়ি পাঠাচ্ছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আশপাশের শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়।

ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সুনাম উদ্দিন চার ছেলেকে নিয়ে বর্গা জমিতে চাষ করতেন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার সময় তার মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন বলেন, নিহতের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

ময়মনসিংহ: জেলার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে ২ জনের। এসময় আহত হয়েছে আরও একজন। শনিবার দুপুর ২টায় গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বায়রাউড়া এলাকায় ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

বজ্রপাতে রহমত উল্লাহ উজ্জল (৪০) নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। এসময় আরও একজন আহত হয়।

এদিকে দুপুরে আকাশে মেঘ দেখে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতের শিকার হন গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগ্রামের মমতাজ আলী নামে এক বৃদ্ধ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code