ঈদের ছুটিতে সিলেটের পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদের পরদিন থেকে সিলেটসহ সারাদেশের পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর, গোয়াইনঘাটের জাফলং, জৈন্তাপুরের লালাখালসহ একাধিক পর্যটন স্পটে। এসব পর্যটন এলাকায় পর্যটকরা ছুটছেন দলবদ্ধ হয়ে। অনেক স্থানে আবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছেন পর্যটকরা। সারাদিন পর্যটন এলাকায় কাটিয়ে সন্ধ্যায় গন্তব্যে ফিরেন পর্যটকরা।
প্রকৃতিকন্যা হিসেবে খ্যাত সিলেটের জাফলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। আর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রিয় মানুষজন বন্ধুবান্ধব পরিবার পরিজন নিয়ে আসেন দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেটে। তাই অন্যান্য সময়ের মতো এবারও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত দর্শনার্থীরা আসছেন জাফলংয়ে। আর তাদের কোলাহলেই মুখরিত এখন জাফলং এলাকা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। আর এতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার সব কটি পর্যটনকেন্দ্র।
বুধবার ঈদের ৩য় দিনেও উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় দেখা গেছে ভ্রমণপ্রিয়দের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে মেঘ-পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল ছাড়াও পানতুমাই ঝরনা, জাফলং চা বাগান ও মায়াবী ঝরনা পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আহাদ জানান, জাফলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে তাঁরা বিমোহিত হয়েছেন। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে তারা এসেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
পর্যটকরা জানান, পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে তাঁরা বিমোহিত হয়েছেন। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে তারা এসেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
ঈদের প্রথম দিন থেকে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কয়েক লাখ পর্যটক এসছেন বলে জানান ব্যাবসায়ীরা। এতে গতি বেড়েছে স্থানীয় অর্থনীতির।
ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে অনেক পর্যটত আসছে। ব্যবসা ভালো হচ্ছে।’
এবার সিলেটের সাদা পাথর, জাফলং, লালাখাল ও চা বাগানগুলোতে আশানুরুপ পর্যটক এসেছেন বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া সাইফুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরে ও কেন্দ্রগুলোর বাইরে পুলিশের টহল সব সময় আছে। কারো কোনো সমস্যা হলে আমাদেরকে অবহিত করলে আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে সাদাপাথর এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার গণমাধ্যমে বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানকার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন। ঈদের মৌসুম হওয়ার কারণে আমরা ১২ জন আনসার মোতায়েন করেছি, সেই সঙ্গে থানা পুলিশের একটি টিম এখানে কাজ করছে। পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং এরিয়াতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করেছে। নৌঘাট থেকে প্রায় দেড় হাজার নৌকা পর্যটন স্পটে গিয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চারদিকেই বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।
Related News
গোলাপগঞ্জে ১০ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্যসহ পিকআপ আটক
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জে অবৈধভাবে ভারতীয় মসলা পাচারের সময় একটি পিকআপRead More
সিলেট সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবির ২ সদস্য আহত
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় বর্ডার গার্ডRead More



Comments are Closed