Main Menu

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমকে হারানোর ১৪ বছর

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে সিলেট নগরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরপারে পাড়ি জমান বাংলা লোকগানের এই কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী।

ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সংগ্রাম, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা, ন্যায়-অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সৃষ্টিতত্ত¡, নবীতত্ত¡, রাধাকৃষ্ণতত্ত¡, মুর্শিদি, মারফতি, ভক্তিগীতি, মনশিক্ষা, দেহতত্ত¡, কারবালাতত্ত¡, বিরহ, বিচ্ছেদ, দেশাত্মবোধক, সমাজ বিনির্মাণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন এবং আজীবন গেয়েছেন দরাজ কণ্ঠে।

উস্তাদ শাহ আবদুল করিম (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ – ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। তিনি হচ্ছেন একজন বাংলাদেশী কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত শিক্ষক। তিনি বাউল সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি পাঁচশো-এর উপরে সংগীত রচনা করেছেন। বাংলা সঙ্গীতে তাঁকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসাবে সম্বোধন করা হয়। তিনি বাংলা সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০১ সালে একুশে পদক পুরস্কারে ভূষিত হন।

Manual8 Ad Code

শাহ আবদুল করিম ইব্রাহিম আলী ও নাইওরজানের ঘরে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব ছোটবেলায় তার গুরু বাউল শাহ ইব্রাহিম মাস্তান বকশ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন। তিনি আফতাব-উন-নেসাকে বিয়ে করেন, যাকে তিনি সরলা নামে ডাকতেন। তিনি ১৯৫৭ সাল থেকে তার জন্মগ্রামের পাশে উজানধল গ্রামে স্থায়ীভাবে আমৃত্যু বসবাস করেন।

ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে। তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শন থেকে। স্বশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। বাউলসাধক শাহ আবদুল জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা তিনি কখনোই গ্রহণ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে জীবন্ত কিংবদন্তীঃ বাউল শাহ আবদুল করিম নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই অ্যালবামের বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তার বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়। ২০০৭ সালে বাউলের জীবদ্দশায় শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি বই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়, ‘শাহ আবদুল করিম সংবর্ধন-গ্রন্থ’ (উৎস প্রকাশন) নামের এই বইটি সম্পাদনা করেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমনকুমার দাশ। শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী ২০০৯ সালের ২২ মে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ও খান বাহাদুর এহিয়া ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি ড. জাফর আহমেদ খানের উদ্যোগে বাউল আব্দুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গ্রন্থ ‘শাহ আবদুল করিম রচনাসমগ্র’ প্রকাশিত হয়। বইটির পরিবেশক বইপত্র।

Manual3 Ad Code

তার রচিত গানের মধ্যে ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না’, ‘তুমি রাখ কিবা মার’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ুরপংখী নাও’, ‘তোমার কি দয়া লাগে না’, ‘আমি মিনতি করি রে’, ‘তোমারও পিরিতে বন্ধু’, ‘সাহস বিনা হয়না কভু প্রেম’, ‘মোদের কি হবেরে’, ‘মানুষ হয়ে তালাশ করলে’, ‘আমি বাংলা মায়ের ছেলে’, ‘আমি কূলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধুসহ অসংখ্য গানগুলি মানুষের মুখে মুখে ফিরে।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন শাহ্ আবদুল করিম। তার পিতার নাম ইব্রাহিম আলী ও মাতার নাম নাইওরজান। বাউল শাহ আবদুল করিমের গান সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়কতার বিরুদ্ধে কথা বলে। যদিও দারিদ্র্যের কারণে তাকে কৃষিকাজে বিপুল শ্রম দিতে হয়েছে, এরপরও গান সৃজন থেকে বিরত থাকেননি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ১৪তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে বাদ জোহর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। বিকেলে আলোচনা সভা ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে বলে শাহ্ আব্দুল করিমের একমাত্র ছেলে নূর জালাল জানিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code