Main Menu

বাউল সংগীতের সাধক কানাই দাস বাউল আর নেই

Manual4 Ad Code

বিনোদন ডেস্ক: ভারতীয় বাউল সংগীতের অন্যতম সাধক ও শিল্পী কানাই দাস বাউল আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

Manual1 Ad Code

প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাও ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী।

গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কানাই দাস বাউল ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। তবে শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা কখনোই তাঁর জীবনযাত্রাকে থামাতে পারেনি। অন্তর্দৃষ্টির আলোয় তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন জীবন, মানুষ ও মানবতার গভীর অর্থ।

শৈশব থেকেই সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। পরবর্তীতে বাউল গুরুর সংস্পর্শে এসে তিনি বাউল সাধনার পথ বেছে নেন। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে তিনি গেয়ে বেড়িয়েছেন মানবতার গান।

তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’- যা তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

Manual7 Ad Code

কানাই দাস বাউল দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাউল সংগীত পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। এছাড়া ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ নামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।

Manual4 Ad Code

তাঁর মৃত্যুর খবরে বাউল সংগীতজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘কানাই বাবা’- একজন সাধক ও পথপ্রদর্শক।

Manual8 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর প্রস্থান বাউল সংগীতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর গান, দর্শন ও সাধনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code