Main Menu

কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’ গানটির স্রষ্টা, কিংবদন্তি গীতিকার, অনেক কালজয়ী গানের স্রষ্টা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার মারা গেছেন।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ভাগ্নে অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়।

জয় তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার মামা বাংলাদেশের কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার আজ সকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালের নেওয়ার পথে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার নামাজে জানাজা এবং অন্যান্য যাবতীয় যা কিছু কখন হবে, আমি ফেসবুক স্ট্যাটাসেরর মাধ্যমে জানিয়ে দেব।’

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পুত্রবধূ শাহানা মির্জাও শ্বশুরের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে (গাজী মাজহারুল আনোয়ার) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার দেখে বলেন তার পালস পাওয়া যাচ্ছে না। এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

শাহানা মির্জা আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে এসিডিটির সমস্যায় ভুগছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। আমরা গতকালকে তাকে ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যাই। রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছিল। আজকে আরও অনেক কিছু পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তো তিনি চলে গেলেন।

তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, রচয়িতা, গীতিকার ও সুরকার। স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান লিখেছেন। তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশের একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। ২০ হাজারের বেশি গান রচনা করেছেন তিনি। বিবিসি বাংলা তৈরিকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তার লেখা তিনটি গান।

তার লেখা কিছু কালজয়ী গান হলো- ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘ও পাখি তোর যন্ত্রণা’, ‘ইশারায় শীষ দিয়ে’, ‘চোখের নজর এমনি কইরা’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে’, ‘ওরে ও পরদেশী’ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তালেশ্বর গ্রামে। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে গান লেখা শুরু করেন। তার গানে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধ, প্রেম, বিরহ, স্নেহ’সহ আরও নানা প্রসঙ্গ।

0Shares





Related News

Comments are Closed