মইয়ারচরে যৌতুকের বলি নাজমিন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট শহরতলীর জালালাবাদের মইয়ারচরে স্বামীর বাড়িতে নিহত গৃহবধু নাজমিন আক্তার (২০) হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তার মা শেফালী আক্তার। তিনি তার মেয়ে নাজমিন আক্তারের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী জানিয়েছেন।
রোববার (৫ মে) বেলা আড়াইটায় সদর উপজেলাধীন তেমুখী পয়েন্টে সিলেট সদর উপজেলাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে তিনি এ দাবী জানান। এসময় নাজমিন আক্তারের ভাই মিজান উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
নাজমিনের মা শেফালী আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে বাঁচতে দেয়নি এসব মানুষরুপী পাষন্ডরা। বার বার বলার পরও কয়েকটা টাকার জন্য ওরা সংঘবদ্ধ ভাবে আমার কলিজার টুকরা মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে। তিনি এসব হায়েনাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর জানান।
এছাড়াও মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ ইসহাক, সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুক আহমদ, শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক কমর উদ্দিন।
মানববন্ধনে বক্তারা নাজমিন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে সোমবার বিকালে স্বামী নাঈমের মইয়ারচরস্থ বাড়িতে নাজমিন আক্তারকে হত্যা করে পরিকল্পিত খুনের ঘটনাকে আড়াল করতে দরোজা ভেঙে নাটক সাজিয়ে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে স্বামীর বাড়ির লোকজন। পুলিশও প্রথমে আত্মহত্যা বলে মেনে নিয়েছিল। পরে ঘটনার বিবেচনায় সেটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে নাজমিনের স্বামী নাঈম উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা।
নাজমিন আক্তার পার্শ্ববর্তী জালালাবাদ ইউনিয়নের রায়েরগাঁওয়ের আব্দুস সাত্তারের দ্বিতীয় মেয়ে ও স্থানীয় নলেজহোম একাডেমির শিক্ষিকা।
শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রিতে অধ্যায়নরত নাজমিন আক্তারকে পারিবারিকভাবে গত জানুয়ারি মাসে নাঈমের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছিলো। বিয়ের আগের দিন থেকে নাঈম ও নাজমিনের পরিবারের টানাপড়েন শুরু হয়।
নাজমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিয়েতে উপহার দেয়া ফার্নিচার নিয়ে আপত্তি তোলেন নাঈমের পিতা সাঈম উদ্দিন। তিনি দাবি করেন ফার্নিচার নিম্নমানের। বিয়ের পর নাজমিন স্বামীর গৃহে আসার পর এ নিয়ে নানা কথা চলে। লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাশুড়ী রেহেনা বেগম। এ কারণে প্রায়ই নাজমিনকে মানসিক নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে প্রতিবাদী হন নাজমিন। এতে তার উপর শাস্তির মাত্রা আরও কঠিন হয়। স্বামী, শাশুড়ি মিলে নাজমিনকে মারধর করতো। এসব বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্ব›দ্ব শুরু হলে নাজমিনকে পিতার বাড়িতে পাঠানো বন্ধ করে দেয় স্বামীর পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের ৫ মাস হলেও নাঈমের পরিবার মেয়েকে পিতার বাড়িতে বেড়াতে যেতে দিতো না। অনেকটা জোর করেই নাজমিনকে আটকে রাখে। গত ঈদের পর পিতা ও ভাইয়েরা এ নিয়ে প্রতিবাদী হলে নাজমিনকে পিতার বাড়িতে পাঠানো হয়।
তারা জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বামীর বাড়ি থেকে নাজমিনকে পিতার বাড়ি পাঠালেও কেউ যোগাযোগ করেননি। ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে এসে নাজমিনকে চিকিৎসা করানো হলেও স্বামী কিংবা তার পরিবারের কেউ দেখতে যায়নি।
মামলার এজাহারে নাজমিনের পিতা আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন, ঘটনার কিছুদিন আগে থেকে যৌতুক হিসেবে নাজমিনের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত ৩০ মে সোমবার তিনি, তার স্ত্রী ও ছেলে নাজমিনকে স্বামীর বাড়ি নিয়ে গেলে তাদেরকে এক রুমে বসিয়ে রেখে নাজমিনকে ভেতরের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা নাজমিনের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। টাকা নিয়ে আসেনি বলে জানালে নাঈম ও তার পরিবারের লোকজন নাজমিনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। স্বামী নাঈম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নাজমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নাজমিনকে বাথরুমে নিয়ে কাপড়ের স্ট্যান্ডের সঙ্গে বেঁধে রাখে।
আব্দুস সাত্তার জানান, তখন আমরা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। কিন্তু পালিয়ে যায় নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নাজমিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
Related News
ফেঞ্চুগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুইRead More
সিলেটে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে সাতসকালেই দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কেরRead More



Comments are Closed