Main Menu

যাদুকাটা বালু মহালের সীমানা নির্ধারণ করে দিল উপজেলা প্রশাসন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রায় ৩২ কোটি টাকা ইজারামূল্য গ্রহনের পর সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর বালু মহাল দুটির দখল সমজিয়ে দিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। আগামী এক বছরের জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকায় সর্ববৃহত্তর বালু মহাল দুটির সীমানা নির্ধারন এর পাশাপাশি ইজাদারদেরকে দখল সমজিয়ে দেয়া হয়েছে।

১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আলাউদ্দিন,২৮ বর্ডারগার্ড বিজিবি’র লাউড়েরগড় বিওপির কোম্পানী কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব মিয়া, মেসার্স আজাদ এন্টারপ্রাইজ ও নীলম ট্রেডিং এই দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মোঃ জিয়াউল হক এবং ইজারাদার জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ সেলিম আহমদের উপস্থিতিতে তাদের নিকট মহাল দুটির দখল সমজিয়ে দেয়ার সাথে সাথে সীমানা নির্ধারণ করে নিশান লাগিয়ে দেয়া হয়। এই বালু মহাল ইজারার ফলে এই অঞ্চলের প্রায় লাখো শ্রমিকের নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইজারাদারগন।

তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আলাউদ্দিন বলেছেন, যাদুকাটা নদী বালুমহাল-১ এবং যাদুকাটা নদী বালুমহাল-২ মহাল দুটি সংশ্লিষ্ট নদীর বারিকের টিলার পরে ১২০৩ নং পিলারের উজানে ইজারাদারের কোন শ্রমিক প্রবেশ করতে পারবেনা। কেননা এই পিলারের পরে নদীর বাকি অংশটুকু সরাসরি ভারতের নোম্যান্স ল্যান্ড এর আওতাভূক্ত। ইজারাদারদের অনুকূলে পতাকাচিহ্নিত স্থানের ডানদিকে ৫ শত ফিট পরেই ভারতের নোমেন্স ল্যান্ড,আর বাম দিকে হলো বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী যাদুকাটা-১ বালু মহালটি।

বালুমহালটির ইজারাদার মোঃ মেসার্স নীলম ট্রেডিং এর প্রোপাইটর সেলিম আহমদ বলেন, প্রতিপক্ষের সাথে মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত ঝামেলার মোকাবেলা করে এই বালুমহাল দুটি গত বছর সরকারের কোষাগারে রাজস্ব খাতে ১০ কোটি টাকার বেশী ইজারামূল্য পরিশোধ করে আমরা এই মহালটি একবছরের জন্য ইজারা গ্রহন করি। এবার প্রায় ৩২ কোটি টাকা ইজারামূল্য দিয়ে আরো একবছরের জন্য এই মহাল দুটির ইজারা গ্রহন করেছি। তবে নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে কোন শ্রমিক ভারতের সীমানায় যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে আমরা ইজারাদারগণ এখানকার প্রতিটি জায়গাতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা ভাবছি। তিনি আরো বলেন,এই বালু মহাল দুটি ইজারা নেওয়ার ফলে এই জেলায় সম্প্রতি যে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে তাতে ক্ষতি পুষিয়ে আনতে এখানে প্রায় লাখো শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জিয়াউল হক বলেন,গত বছর ইজারা গ্রহন করলেও একদিকে মহামারী করোনা আতংক অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মামলা মোকদ্দমাসহ নানাবিধ কারণে আমরা লাভতো দূরের কথা ব্যবসা পর্যন্ত করতে পারিনি। তারপরও এবার সর্বোচ্চ ইজারামূল্য দিয়ে মহাল দুটি ইজারা নিয়েছি সাধারন শ্রমিক ভাইদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। আমরা লাভ করতে না পারলেও লাখো শ্রমিকরা যাতে আমাদের মহাল দুটিকে কেন্দ্র করে তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ এবং নিরাপদ কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন সেজন্যই আমাদের এ প্রচেষ্টা।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed