Main Menu

সুনামগঞ্জে তিন মাসে নিখোঁজের ৩৭ জিডি, ২০ জনই শিক্ষার্থী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সন্তানকে সকালে স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না সুনামগঞ্জের অভিভাবকরা। স্কুলে যাচ্ছে কি না, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকছে কি না কিংবা ছুটির পর নিরাপদে বাড়ি ফিরছে কি না—এমন নানা দুশ্চিন্তা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া এবং প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিখোঁজের ঘটনায় ৩৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও তিনজনের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে। বাকি নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর ক্ষেত্রে। সকালে বাবার সঙ্গে রিকশায় চড়ে স্কুলে আসে সে। স্কুলের গেটে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান বাবা। কিন্তু ছুটির পর নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফেরেনি মেয়েটি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন।

পরদিন পুলিশ ওই ছাত্রীর সন্ধান পায়। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই এক তরুণের সঙ্গে নেত্রকোনায় গিয়ে বিয়ে করেছে সে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে নিখোঁজ হওয়া ২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও তিনজনের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা পছন্দের মানুষের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির চিত্রেও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া এক নবম শ্রেণির ছাত্রীর উপস্থিতির হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিন মাসে সে স্কুলে উপস্থিত ছিল মাত্র চার দিন। আগস্টে এক দিন, সেপ্টেম্বরে দুই দিন এবং অক্টোবরে এক দিন স্কুলে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ পরিবারের দাবি, মেয়েটি নিয়মিত স্কুলে যেত।

সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এক অভিভাবক বলেন, শুধু স্কুলে পাঠিয়েই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান সত্যিই স্কুলে পৌঁছেছে কি না, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল কি না এবং ছুটির পর কার সঙ্গে বাড়ি ফিরছে—এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কেউ অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত অভিভাবকদের জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা প্রয়োজন। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং নজরদারি বাড়ানো না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ। থানার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘আপনার সন্তানের খোঁজে স্কুলে যাবেন।’

পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সন্তান স্কুলে যাচ্ছে কি না এবং শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন সেখ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে নিখোঁজ হচ্ছে। কেউ স্কুলে যাওয়ার পথে, কেউ ফেরার পথে, আবার কেউ স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরছে না। এসব ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষকেই আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

Share





Related News

Comments are Closed