বাঁধের কাজে যারা দুর্নীতি করেছেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা : সচিব
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের সবকটি হাওরের ফসল গড়ে উঠানোর পূর্ব পর্যন্ত সকল ফসল রক্ষা বেরীবাঁধ গুলো অক্ষত রাখতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য জেলাবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খোজে বের করতে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ও গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছেন। তদন্ত কমিটি ও গোয়েন্দা রিপোর্টে যাদের নাম আসবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মধ্যস্বত্তভোগীদের ও খোজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা কাবিটা স্ত্রীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জেলা কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নেতৃবৃন্ধ, সুবিধাভোগী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার আরো বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে। আর নির্দিষ্ট সময়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু এবং শেষ করতে হবে।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে এসেছি কৃষকের কথা,এ অঞ্চলের মানুষের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করবো। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালককে ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় করার জন্য নির্দেশ দিয়ে সিনিয়র এই সচিব বলেন, সুনামগঞ্জের ১৪টি নদী খননের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ড্রেজিং এর সাবস্টেশন সুনামগঞ্জে হবে। ১০ হাজার কোটি টাকায় ৪/৫টা বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যেসব জায়গায় বাঁধের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সেসব জায়গায় পাকা বাঁধের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। যখন প্রয়োজন হবে ড্রেজিং করা হবে। হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষা করে ফসল রক্ষার জন্য সব রকমের কাজ করা হবে। প্রয়োজনে এলিভেটেড সড়ক হবে। তবে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হচ্ছে জান দিয়ে আগাম বন্যা ঠেকানো।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, হাওর বাচাঁও অন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পিপি ড. খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্পেশ্যাল পিপি নান্টু রায় এডভোকেট, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, জুনেদ আহমদ,সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোবারক হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিপি এডভোকেট আখতারুজ্জামান আহমদ সেলিম, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক আল হেলাল, সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার উল-হালিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অসীম চন্দ্র বণিক, সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনালের ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস, জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপপচিালক সূচিত্রা রায়,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জয়নাল আবেদীন, সাবেক জেলা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুল মোমেন,বিটিভি প্রতিনিধি এডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু ও দৈনিক প্রথম আলো প্রতিনিধি এডভোকেট খলিল রহমান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন,সুনামগঞ্জের হাওরে ভূমি মন্ত্রণালয়,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়,খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কাজ রয়েছে। বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উন্নয়ন স্কীমের আওতায় যেসব জলমহাল ইজারা দেয়া হয় সেইসব জলমহালের যারা ইজারা গ্রহন করেন তারা মাছ খেলেও জলমহালের তলদেশ খনন করেননা। চলমান ড্রেজিং এর নামে খাল খননের ন্যায় খনন করা হলেও বড় ধরনের খনন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। তাই হাওরের কাজে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। বাপপুত,চাচা ভাতিজা ও মামা ভাগ্নের পিআইসি গঠনের মাধ্যমে যারা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহন করে অপ্রয়োজনীয় বাঁধের কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সুরমা ইউনিয়নের ১নং পিআইসির ন্যায় যেসব পিআইসিতে ৩১ শে মার্চের পরে বাঁধের কাজ করা হয়েছে তাদের গাফিলতির জন্যই আজ হাওরগুলো হুমকীর সম্মুখীন। তাই ঝুকিপূর্ণ পিআইসিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী এখন গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। এসব পিআইসর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কেন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছেনা। প্রশাসনের দূর্বলতা কোথায় তা জেলাবাসীকে জানাতে হবে। একই ইউনিয়নের ২৬ নং অপ্রয়োজনীয় পিআইসিতে প্রথম ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়। অভিযোগ দায়েরের পর ২৩ লাখ থেকে বরাদ্দ কমিয়ে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নির্ধারন করা হয়। এ ঘটনায় প্রমাণিত হয় হাওরের ডানে বামে ও পূর্ব পশ্চিমে পাকা রাস্তার মধ্যবর্তী ঐ পিআইসিটি একটি অপ্রয়োজনীয় পিআইসি। তারপরও কেন অপ্রয়োজনীয় পিআইসির নামে ৫৭% বিল দেয়া হয়েছে এর জবাব কাউকে না কাউকে দিতেই হবে। ঠিকাদারী প্রথায় জবাবদিহীতা নিশ্চিত থাকলেও পিআইসি প্রথায় জবাবদিহীতা কেন নেই তা সকলকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে জানাতে হবে। পিআইসিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে কোন ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবেনা। বাপাউবোর এসও সাহেবরা কেন রাজনৈতিক দলের মতামতকে তোয়াক্কা করলেননা এবং গণশুনানী ছাড়া প্রাইভেট চেম্বারে ও বাসায় বসে কার স্বার্থে পিআইসির নামে সিন্ডিকেট গঠন করে সরকারী অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত ছিলেন তারা যে বা যারাই হউননা কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
Related News
সুনামগঞ্জ হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছেRead More
সুনামগঞ্জে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে খুন হলেন মা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে গলা কাটা অবস্থায়Read More



Comments are Closed