৩৯ বছর কোমায় থেকে ফুটবলার অ্যাডামস’র মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৯ বছর ছিলেন জ্ঞানহীন অবস্থায়। পরিবারের সদস্যরা হয়তো আশায় ছিলেন কোনো একদিন চোখ মেলে তাকাবেন জন পিয়েরে অ্যাডামস। কিন্তু তা হয়নি।
প্রায় চার দশক জীবন-মৃত্যেুর সন্ধিক্ষণে থেকে সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) চলে গেলেন জ্যা পিয়েরে অ্যাডামস। ফ্রান্সের এই সাবেক ফুটবলার যেন মুক্তি পেলেন জীবন যুদ্ধ থেকে। ৭৩ বছর বয়সে এবার চলেই গেলেন না ফেরার দেশে ফ্রান্সের এই সাবেক ডিফেন্ডার।
১৯৮২ সালের মার্চে হাঁটুর সার্জারি করতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী পিয়েরে অ্যাডামস। তখন শিক্ষানবীশ চিকিৎসক চেতনানাশক দেয়ার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ায় আর কখনও জ্ঞান ফেরেনি তার। চেতনানাশক ব্যবহার করতে গিয়ে চিকিৎসক যে ভুল করলেন, তার মাশুল গুনলেন দীর্ঘ ৩৯ বছর।
সেনেগালে জন্ম নেয়া এই ডিফেন্ডার ফ্রান্সের ক্লাব নিসের হয়ে খেলেছেন ১৪০টির বেশি ম্যাচ। এছাড়া ফ্রান্সের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়েও খেলেছেন তিনি। পিয়েরে অ্যাডামসের মৃত্যুর পর শোকবার্তা দিয়েছে পিএসজি।
পিয়েরে অ্যাডামসের সম্মানে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মোনাকোর বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগে কর্মসূচি রাখার কথা জানিয়েছে আরেক ক্লাব নিস।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ২২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এছাড়া নিমসের হয়ে খেলেছেন ৮৪টি ম্যাচ।
প্রায় ৩৯ বছর আগে অনুশীলন ক্যাম্পে হাঁটুর পেশির ইনজুরিতে পড়েছিলেন অ্যাডামস। সেদিন লিয়ন শহরের হাসপাতালের বেশিরভাগ কর্মী হরতাল পালন করছিলেন।
তবু অ্যাডামসের অপারেশন চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন একইসময় অ্যাডামস এবং আরও সাতজন রোগীর দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের অ্যানেস্থেটিস্ট। তাই অ্যাডামসের দায়িত্ব দেয়া হয় এক শিক্ষানবিশের কাঁধে।
পরে সেই শিক্ষানবিশ বলেছিলেন, ‘আমাকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছিল, আমি সে কাজের উপযুক্ত ছিলাম না।’
সেই এনেস্থেটিস্ট ও শিক্ষানবিশের হাত দিয়ে অ্যাডামসের চিকিৎসায় একাধিক ভুল হয়। যে কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও ব্রেইন ড্যামেজ হয় অ্যাডামসের। এরপর থেকেই বিছানায় কেটেছে তার বাকিটা জীবন। টানা ৩৯ বছর। তিনি শুনতে পেতেন। হয়তো বুঝতেও পেতেন। কিন্তু নড়াচড়া আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না।
এই অপরাধের দায়ে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এনেস্থেটিস্ট ও শিক্ষানবিশকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৭৫০ ইউরো জরিমানা করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির ১৫ মাস পর ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হয় অ্যাডামসকে। তারপর থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত নিমসে নিজ বাড়িতে স্ত্রীর দেখভালে ছিলেন এ ফুটবলার।
এবার সেই জীবন থেকেও মুক্তি পেলেন অ্যাডামস। তার স্ত্রী বার্নাডেট নিমসের কান্না যে থামছেই না। অ্যাডামসের শেষ ৩৯ বছরের সেই অসহায়ত্বের জীবনে তিনিই যে ছিলেন সব সময়ের সঙ্গী। নিমসের ভালবাসা, পরিচর্যাতেই হয়তো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের পথ দীর্ঘ হলো এতোটা!
Related News
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলের আকাশে আবার রক্তিম সূর্যোদয়। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপRead More
গোল বন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার দরুন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড।Read More



Comments are Closed