Main Menu

পঞ্চগড়ে ভাইকে হত্যার রহস্য উন্মোচন, বোন সহ গ্রেপ্তার ২

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পঞ্চগড়ের মহারাজার দিঘীতে মানিক হোসেন (১৯) নামে তরুণের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। আত্মহত্যা নয় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এঘটনায় তার আপন বড় বোন সমলা আক্তার (২৪) ও চাচার শ্যালক শাহাবুদ্দিন (৪৬) জড়িতের কথা স্বীকার করেছেন।

নিজের বোনকে ভিডিও ধারণ করে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার প্রতিশোধ নেয়া ও প্রতিবেশিদের ফাঁসাতে লোমহর্ষক এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। এর মধ্যে বোন বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ফরহাদ হোসেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানায়, গত বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অমরখানা ইউনিয়ন মহারাজা দিঘী থেকে উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার মানিক হোসেন নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের কোমরে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে তার মৃত্যুর জন্য কয়েকজনকে দায়ী করে নাম উল্লেখ করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।

এদিকে অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামী করে বুধবার (১৫ জুলাই) পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করে মানিকের বড় ভাই মালেক হোসেন।

পরে হত্যার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নেমে নিহতের বোনের কক্ষে ঢুকে ওই চিরকুটের লেখার হুবহু লেখা একটি ক্যালেন্ডারের পাতা খুঁজে পায় পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় মা মালেকা বেগম ও বোন সমলাকে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যার কথা স্বীকার করে বোনটি। তবে মায়ের কোন সম্পৃক্ততা না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

বোন সমলার সূত্রে পুলিশ জানায়, তৃতীয় বিয়ে হলেও বাবার বাড়িতেই থাকতো মানিকের বোন সমলা। গত তিন মাস আগে জোরপূর্বক তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আপন ছোট ভাই মানিক। এসময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে একাধিকবার বোনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে। এঘটনায় বোন তার উপর নির্যাতনের জন্য প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে। গত ১২ জুলাই প্রতিবেশিদের সাথে বোনের ঝগড়া হলে সে ভাই মানিককে হত্যা করে প্রতিবেশিদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। এক পর্যায়ে সহযোগী হিসেবে সাথে নেয় শাহাবুদ্দিন নামে এক প্রতিবেশীকে। পরিকল্পনা মতে, গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ভাই মানিককে নিয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মহারাজার দিঘীতে ঘুরতে যায় ওই বোন সমলা। সেখানেও একটি বাড়িতে নিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে মানিক। পরে রাত ৮ টায় পাশের একটি হোটেলে পানির সাথে মানিককে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় বোন। রাত ১০ টায় মানিক ঘুমের ঘোরে টলতে থাকলে তাকে মহারাজার দিঘীর পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার পকেট থেকে মোবাইলটি বের করে পানিতে ফেলে দিয়ে কোমরে চিরকুট রেখে সটকে পড়ে বোনটি। পরে তার সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। পরে রাত একটায় তারা একসাথে বাড়ি ফিরে যায়। পরে বুধবার দুপুরে মহারাজার দিঘীতে মানিকের মরদেহ পাওয়া যায়।

Share





Related News

Comments are Closed