ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার পর এবার ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। টানা ষষ্ঠ রাতের মতো চালানো এই হামলায় দেশটির যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে মার্কিন বোমাবর্ষণে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে চালানো সর্বশেষ এই হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান প্রধান মাধ্যমগুলোকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছে। হামলার তালিকায় ছিল দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতু, উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইরানশাহর বিমানবন্দর।
আইআরএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবর্ষণের পর ঘটনাস্থলেই অন্তত সাতজন নিহত হন। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রাণহানির খবরটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই তারা এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা, যেখানে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান ঘাঁটি রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, তারা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামোসহ কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরে বেসামরিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সেতু ধ্বংসের বিষয়ে মার্কিন সামরিক পক্ষ থেকে বিশদ কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নিজেদের বেসামরিক স্থাপনায় এই ভয়াবহ হামলার জবাবে আজ ভোরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিসহ বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় সফল আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা ধাতব টুকরোর আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।
দুই দেশের এই বিধ্বংসী হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। তেহরান নতুন করে প্রণালিটিতে নৌ অবরোধ আরোপ করায় এবং ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যে তেহরান হুমকি দিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের জাতীয় গ্রিড বা অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
Related News
ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা
Manual1 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার পরRead More
একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা!
Manual6 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েই যমুনা নদীর সেতুতে গিয়েছিলেন প্রেমিক-প্রেমিকা। কিন্তুRead More



Comments are Closed