আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সদর উপজেলার ৭ নং মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনু বলেছেন, আমি যদি আওয়ামী পরিবারের কেউ না হতাম, তাহলে ২০১৬ সালের নির্বাচনে কেন আমাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিলো।
খাদিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসর আহমদ, টুলটিকর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হুসেনের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী গণ্য করে সেইসময় আমাকেও দল থেকে বহিস্কার করা হয়। যা পরবর্তীতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন যেহেতু আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি, তাই হয়তো আমি দলের কোন পদে নেই। কিন্তু আমি আওয়ামী পরিবারের একজন সন্তান হিসেবে দলের সকল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছি।
কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর মোগলগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিরণ মিয়া আমাকে ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করেছেন, তা উদ্দেশ্য প্রনোদিত। এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন আওয়ামী পরিবারের সন্তান, আমার বাবা খুর্শিদ আলী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একজন সমর্থক, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের একজন সফল সংগঠক। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমার গ্রাম মোগলগাঁও এবং এলাকার লোকজন নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমার চাচাত ভাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলীসহ প্রায় ৪০ জন যুবককে মুক্তিযুদ্ধে পাঠাতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে আমার মামাতো ভগ্নিপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুন নুরসহ অনেকে মৃত্যুবরণ করলেও এখনো আমার আরেক চাচাত ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী সুরুজ আলীসহ অনেকে বেঁচে আছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ১ম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজীর পরামর্শে দেশকে এগিয়ে নিতে নিজেকে উজাড় করে কাজ করে যান। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাকান্ডের পর অনেকে আত্মগোপনে চলে গেলেও আমার বাবা জনসমক্ষে আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ হিসাবে কাজ করে যান। কিন্তু ১৯৮৬ সালের এপ্রিল মাসে রাজাকারের মদদদাতা বিএনপি-জামায়াতের পরামর্শে আমার বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে গুম করে ফেলা হয়। এর ৪দিন পর মস্তকবিহীনভাবে আমার বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার নিজ ইউনিয়নের (৭ নং মোগলগাঁও) জনসাধারণের অনুরোধে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হামিদ চুনু মিয়া (সাবেক মেম্বার), আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আজির উদ্দীন, ফজর আলী (সাবেক মেম্বার), ছলিম উল্লাহ, হাজী আং হক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী, ওয়াসিদ আলী, আহমদ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আশফাক আহমেদের সাথে দেখা করে উনার দোয়া নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করি। তখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে আরো অনেক প্রার্থীর সাথে হেরে যান মোগল গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেম্বার কিরন মিয়ার বড় ভাই লন্ডন প্রবাসী হিরন মিয়া। গত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তির সহায়তায় নৌকা প্রতীক এনে কেন্দ্র দখলসহ নানা অপচেষ্টা চালিয়ে আমার চেয়ে ১০৪ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। মূলত তার সূদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমাকে জামায়াত-বিএনপি বানানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। কারণ, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আমি আমার মেজো ভাই আহমদ হোসেন মনু মিয়া (সাবেক মেম্বার) সহ মরহুম স্পিকার হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর নির্বাচনে কাজ করি। পরে আমি বিদেশে চলে গেলেও ২০০৭ সালে দেশের টানে এবং ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করানোর জন্য দেশে চলে আসি। বর্তমানে আমার ১ম ছেলে ডা: আবুল ফয়েজ মো: সালমান ঢাকাস্থ বারডেম জেনারেল হাসপাতালে, ২য় ছেলে আবুল ফাত্তাহ মো: সায়েম ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, ৩য় ছেলে আবুল ফজল মো: সাউদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ২০২০ সালে আমার একমাত্র মেয়ে এসএসসি পরিক্ষা দেবে। আমি আমার সন্তান এবং ব্যবসার কাজে ব্যস্ততার কারণে রাজনৈতিক কাজে খুব একটা সক্রিয় হতে না পারলেও ঘরোয়া বৈঠক ও পরামর্শ সভায় সব সময় সক্রিয় ছিলাম। ২০১১ সালে আমার ইউপির দশগ্রাম বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এবং আমার দায়িত্বে সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই জনসভার প্রায় ৫/৬ হাজার লোকের সমাগম ঘটে এবং আমি সেই জনসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখি। উপস্থিত ছাতক-দোয়ারার এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আশফাক আহমদ এবং উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আমার বক্তৃতার ভুয়সী প্রশংসা করেন। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সিলেট আগমন উপলক্ষে আম্বরখানাস্থ হোটেল পলাশে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমাকে খোঁজ করে পরামর্শ সভায় নিয়ে আসেন। সভা শেষে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদের বাসায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জের তৎকালীন এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরীর উপস্থিতে আমাকে আওয়ামী লীগের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। সেই থেকে আমি দলের সকল কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন। দলের হাই কমান্ড পর্যন্ত জানেন আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, হিংসার বশবর্তী হয়ে আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমার নামে মিথ্যাচার করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে উনি (হিরণ মিয়া) ভোটের কাজ না করে নিজেকে জাহির করার জন্য প্রার্থীর পিছনে ছুটতে থাকেন। উনার ভাই কিরন মিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। গত নির্বাচনে তার সেন্টারে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি নেন তার ভাই। পরে সেখানে পুলিশের সাথে গুলাগুলি হয়। বিএনপির হামলায় আহত হন ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের সেন্টার কমিটির আহবায়ক নজির আহমদ আজাদ।
তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আলহাজ¦ আশফাক আহমদের বিরুদ্ধে তিনি কাজ করেছেন। জননেত্রীর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এডভোকেট নুরে আলম সিরাজীর পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে উনার ভাই কিরন মিয়ার কথায় নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করতে বিএনপির মাজহারুল ইসলাম ডালিমের পক্ষে কাজ করেন। যা সকলেই জানেন। এমন অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আশফাক আহমদকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা বন্ধসহ শেখ হাসিনার একজন কর্মী হয়ে দেশ ও জাতির জন্য আজীবন কাজ করে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মোগলগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ চুনু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রইছ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিদ উল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াসিদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক মাশুক মিয়া, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কেরামত আলী, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আছাব আলী, আলকাছ আলী, নছির আলী, আব্দুল হান্নান, আব্দুল্লাহ জাহিদ, আব্দুন নূর, আরিশ আলী, হুশিয়ার আলী, শামসুল ইসলাম, মনির উদ্দিন, আব্দুল হামিদ, গোলাম হোসেন, যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ান, নূর উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আফজাল হোসেন প্রমুখ।
Related News
সিলেটে নিহত শিশু ফাহিমার বাসায় গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমারRead More
সিলেট সরকারী আলীয়া মাঠে ঈদুল আযহার জামাত সকাল সাড়ে ৭ টায়
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আন্জুমানে খেদমতে কুরআন সিলেট-এর উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষেRead More



Comments are Closed