সুবীর নন্দী আর নেই
বিনোদন ডেস্ক: বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ মে) ভোর সাড়ে চারটায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
সুবীর নন্দীর মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ফাল্গুনী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘আমার বাবা নেই’।
কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগতে থাকা সুবীর নন্দী গত ১৪ এপ্রিল রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। এক পর্যায়ে লাইফ সাপোর্টও দেওয়া হয়।
১৮ দিন সিএমএইচে থাকার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় সুবীর নন্দীকে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে সেদিনই এই শিল্পীর চিকিৎসা শুরু হয়।
কিন্তু হাসপাতালের এমআইসিউতে চিকিৎসাধীন সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। ঢাকায় সিএমএইচে থাকার সময় তার একবার হার্ট অ্যাটাক হয়। সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয় সুবীর নন্দীর। শেষ পর্যন্ত জীবন যুদ্ধে হার মেনে চলে যান বাংলা গানের নন্দিত এ শিল্পী।
পারিবারিক সূত্র জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর নেয়ার দুই দিন পর সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে অবনতি হতে থাকে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলাকালীন পরপর তিনবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ এপ্রিল রাতে পরিবারসহ সিলেট থেকে ফিরছিলেন সুবীর নন্দী। উত্তরার কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচে নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে সুবীর নন্দী গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রেও উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান।
সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭২ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’। গানটির গীত রচনা করেন মোহাম্মদ মুজাক্কের এবং সুরারোপ করেন ওস্তাদ মীর কাসেম।
১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে।
তবে চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে।
চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। আর চলতি বছরে সংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার সুবীর নন্দীকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেছে।
সুবীর নন্দী ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দী পাড়া নামক মহল্লায় এক কায়স্থ সম্ভ্রান্ত সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তার শৈশব কাটে ঢাকা ও কলকাতায়। তার বাবা ছিলেন একজন চিকিৎসক ও তেলিপাড়া চা স্টেটের মেডিকেল অফিসার।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিতে শুরু করেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। তবে সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই।তিনি ১৯৭২ সালে তাঁর প্রথম গান রেকর্ড করেন। গানটি লেখেন মোহাম্মদ মুজাককার আর এটি কম্পোজ করেন ওস্তাদ মীর কাসেম।
তার গাওয়া অনেক জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘তুমি এমনি জাল পেতেছ সাংসরে’, ‘আমার এই দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘এক যে ছিল সোনার কন্যা’ এবং ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’ উল্লেখযোগ্য।
Related News
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী
বিনোদন ডেস্ক: একসময় ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা। তবেRead More
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলল নানা পাটেকারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
বিনোদন ডেস্ক: এবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।Read More



Comments are Closed