Main Menu

শাহ্ আরফিন টিলায় ৮ বোমা মেশিন ধ্বংস

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ্ আরফিন টিলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পরিবেশ বিধ্বংসী ৮টি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। এতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরাও অংশ নেয়।

কোম্পানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বোমা মেশিন ধ্বংসছাড়াও হোসেন নামের এক মেশিন মালিককে আটক করা হয়। তবে বাকি মালিকরা এর আগে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি।

টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানের পরও শাহ্ আরফিন টিলায় পরিবেশ বিধ্বংসী নিষিদ্ধ যন্ত্র বোমা মেশিনের ব্যবহার অব্যাহত রাখে একটি চক্র। ফলে যেকোনো সময় টিলা ধসে আবারও বড় ধরনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা বলেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন এখন অনেক কমেছে। তারপরও কিছু অসাধু লোক লুকিয়ে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করে। তাদের দমনে প্রশাসন নজরদারি আরও বাড়াবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গায় শাহ আরেফিন টিলা। লালচে, বাদামি ও আঠালো মাটির এ টিলার নিচে রয়েছে বড় বড় পাথর খন্ড। এসব পাথর উত্তোলন করতে টিলা কেটে পুরো সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। তারপরও চলছে মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সিলেটের সকল পাথর কোয়ারিতে সব ধরণের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আদালত। এছাড়া ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শাহ আরেফিন টিলাসহ তিনটি কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোম্পানীগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিশাল পাহাড় শাহ আরেফিন টিলা কেটে বোমা মেশিন দিয়ে চলছে পাথর উত্তোলন।

ঝুকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে এই টিলার মাটি ধ্বসে গত একবছরে মারা গেছেন অন্তত ১০ শ্রমিক। এরমধ্যে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ও ১০ মার্চ দুই দফায় এই টিলা ধসে মারা যান ৬ শ্রমিক।

২৩ ফেব্রুয়ারির হতাহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। এই কমিটি শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতি রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনে টিলা কাটার জন্য ৪৭ ‘পাথরখেকো’কে চিহ্নিত করা হয়। এদের সঙ্গে পরোক্ষভাবে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা-পুলিশের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্কের কারণেই ভোলাগঞ্জ ও শাহ আরেফিন টিলায় ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল লাইছ বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তারপরও অপরাধীদের ঠেকানো যাচ্ছে না। আগামীতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Share





Related News

Comments are Closed