ছাতকে নৌ চলাচলে বাঁধা ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : কোম্পানীগঞ্জে বলগেট ও বড় নৌকা প্রবেশে বাঁধা প্রদান ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ। সংবাদ সম্মেলনে ছাতকের একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নৌ চলাচলে বাঁধা প্রদান, নৌকা আটকে রেখে মোটা অংকের চাঁদা আদায় সহ শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।
রোববার (১৫ জুলাই) কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অসাধু ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের জিম্মিদশা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের বালু ও পাথর ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য মোঃ শওকত আলী বাবুল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশে বালি-পাথরের চাহিদার একটি বড় অংশের যোগান আসে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি ও ধলাই-পিয়াইন নদী থেকে। এখান থেকে নদী পথে বলগেট ও ছোট-বড় নৌকায় করে সারাদেশে বালি-পাথর পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু, ছাতকের একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নদী আইন লঙ্গন করে ছাতকের সুরমা নদীতে বলগেট ও বড় নৌকা চলাচলে বাঁধা দিচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জে কোন নৌকা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এমনকি ওই রুটে কোম্পানীগঞ্জের কোন নৌকা পেলেই আটকে রাখা হয়। নৌকার মাঝি ও শ্রমিকদের উপর চালানো হয় নির্যাতন। এ অবস্থায় নৌ পথে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের বালু ও পাথর ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পাথর ও বালুবাহী বলগেট ও বড় নৌকা চলাচল কমে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছে শত শত শ্রমিক। গত কয়েক বছর ধরে তাদের এমন কর্মকান্ডে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট সিলেট সার্কিট হাউজে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাসিমের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ আবুল হাসান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির, ছাতক পৌর সভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার, ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও এবং উভয় থানার ওসিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ছাতকের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজিসহ নৌ চলাচলে বাঁধা দিবেন না, মর্মে প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। তারা তাদের অপকর্ম করেই চলেছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক দু’টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ছাতকের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হাজী আব্দুল মন্নানের আল্লাহর দান নৌ পরিবহন, মেসার্স বশির কোম্পানী স্টোন ক্রাশারের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ আলীর এমভি রিমি তামান্না নৌ পরিবহন, তেলিখাল গ্রামের পাথর ব্যবসায়ী বুলবুলের ‘দশ আনির আলো-৪’ ও শামীম জামানের এমভি দূরন্ত তাজী নৌ পরিবহন তিন-চারদিন আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা আদায় করে নৌকাগুলো ছাড়ে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পাথর ও বালুবাহী নৌযান থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করছে। ‘নৌ পথ ছাড়পত্র’ এর নাম করে চলছে এই চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজ চক্র ছাতকের সুরমা নদী দিয়ে কোম্পানীগঞ্জে প্রবেশকারী পাথর ও বালুবাহী জাহাজ ও বলগেট নৌকা থেকে প্রতিদিন এক হাজার থেকে পনের শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। কোন ব্যবসায়ী বা চালক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা টাকা কম দিতে চাইলে তাঁদের মারধর করছে। এ রুটে চলাচলকারী বালু ও পাথরবাহী নৌযান ছাতকের চিহ্নিত ওই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ নৌ রুটের এই সব অবৈধ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছে ছাতকের কয়েকটি পাথর ও বালু ব্যবসায়ী সমিতি ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ সাহস করে না। প্রশাসন ও পুলিশ এ চিহ্নিত গ্রুপের কাছে অসহায়।
ছাতকের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী কমিশন বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে পাথরের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে উচ্চমূল্যে পাথর বিক্রি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় নির্মাণকাজের জন্য চড়ামূল্যে বালি-পাথর ক্রয় করতে হচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে, রাস্তা-ঘাট নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর টাকা। সেক্ষেত্রে কোম্পানীগঞ্জ থেকে সরাসরি বড় নৌকায় পাথর পরিবহন করা গেলে পাথরের মূল্য এবং নির্মাণ কাজের ব্যয় কমবে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ছাতকের ব্যবসায়ীরা কোম্পানীগঞ্জে বলগেট ও বড় নৌকা প্রবেশে বাঁধা দেয়ায় এবং অবৈধ চাঁদাবাজির ফলে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে কোম্পানীগঞ্জের বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হবে। এ বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। সেজন্য ব্যবসায়ী সমিতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনকে আসামী করায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল, হাজী মোঃ আবুল হোসেন, হাজী ফয়জুল হক, মুজিবুর রহমান মেম্বার, মোশাহিদ আলী, হাজী মোক্তার হোসেন, আব্দুল হেকিম, হাজী ফয়জুর রহমান, হোসন নুর, জসিমুল ইসলাম, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, বুলবুল আহমদ, বজলু মিয়া পাঠান, গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল বাছির, ছয়ফুল আলম, রফিক মিয়া, আমির হোসেন, মোশাররফ হোসেন, সিরাজ উদ্দিন, মোঃ হাসান আলী, শামীম জামান, মজনু মিয়া, রুমেল আহমদ, রুবেল আহমদ, জুমেল আহমদ, কাউছার আহমদ, আব্দুর রউফ, শওকত আলী, আব্দুছ ছাত্তার, নোয়াব আলী, রইছ উদ্দিন প্রমুখ।
Related News
সিলেটে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।Read More
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More



Comments are Closed