Main Menu

কানে ডিভাইস নিয়ে ধরা খেলেন শাবিতে ভর্তিচ্ছু ২ শিক্ষার্থী!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ছোট মাইক্রোফোন আকৃতির একটি ডিভাইস। যা ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযোগ করা হয়েছে ক্রেডিট কার্ড আকৃতির ফোনের সাথে। আর এই ডিভাইসের মাধ্যমে হলরুমের বাহির থেকে প্রশ্নের উত্তর শুনে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী। তবে ভাগ্য তার হাতে ছিল না; ফলে কানের ক্ষুদ্র ডিভাইসটি পড়ে যায় নিচে। আর তাৎক্ষণিক ধরা পড়ে যান হল পরিদর্শকের হাতে।

এভাবেই জালিয়াতির মাধ্যমে শনিবার (১৮ নভেম্বর) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েন মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর বন্দর বাজারস্থ রাজা জি.সি হাই স্কুল কেন্দ্রের ৪নং কক্ষ থেকে ডিভাইসহ তাকে আটক করা হয়। এসময় পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন শাবির আইপি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস এবং ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মুমিত।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (রোল নম্বর- ১১২৯৮০১) বলেন, কানের মধ্যে ছোট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বসাইয়ে সে বাইরে থেকে আসা কণ্ঠে প্রশ্ন ও উত্তর শুনে পরীক্ষা দিচ্ছিল। হঠাৎ করে তার কান থেকে ডিভাইসটি নিচে পড়ে যায়। এসময় কক্ষে কর্মরত শিক্ষক টের পেয়ে যান। এভাবে পরীক্ষায় উত্তর সরবরাহকারীকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে এমন চুক্তি করেন। তবে উত্তর সরবরাহকারী ব্যক্তি কোচিংয়ের পরিচিত একজন বলে জানান এ প্রতিবেদককে।

উদ্ধারকৃত ডিভাইস

একই ভাবে বিকাল ২টায় ৪০মিনিটের দিকে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নগরীর তালতলাস্থ লিডিং ইউনিভার্সিটির ৬০৪ নন্বর কক্ষ হতে ছানোয়ার হোসেন নামের (রোল নং- ১১২৪৯৪২) আরেক জনকে আটক করা হয়। এ কক্ষে পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন শাবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আজিজুল বাতেন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশেদুল আজিম।

আটক মেহেদী হাসান (১৮) গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার বাধাইপাড়া গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে এবং ছানোয়ার হোসেন (১৮) টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার চাপাইদ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তাদের কাছ থেকে দুটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পাওয়া গেছে। অসদুপায় অবলম্বন করার কথা তারা প্রাথমিকভাবে শিকারও করেছে। এ ঘটনায় তাদের দুজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, আটক দুজনকে রোববার (১৯ নভেম্বর) সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করে ৭ রিমান্ডের আবেদন করা হলে শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শাবির ‘এ’ ইউনিট ১৭টি কেন্দ্রে এবং দুপুর আড়াইটায় ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এবছর ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দিতা করেন ৩৩জন শিক্ষার্থী। ‘এ’ ইউনিটে ৬১৩টি ও ‘বি’ ইউনিটে ৯৮০টিসহ সর্বমোট ১৫৯৩টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৫২ হাজার ২৭৯জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এছাড়া বিভিন্ন কোটায় ৯৬টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed