Main Menu

রংপুরকে ১১ রানে হারালো চিটাগং ভাইকিংস

স্পোর্টস ডেস্ক: তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাশরাফির রংপুর রাইডার্সকে ১১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে বন্দর নগরী দল চিটাগং ভাইকিংস। ম্যাচে যখন রংপুরের সহজ জয়ের কথা মনে হচ্ছিলো ঠিক তখনই ম্যাচের মুড় ঘুরিয়ে দেন স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ।১৩তম ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে নাফিস ও সলিমুল্লাকে আউট করে এবং ঐ ওভারের শেষ বলে বোপারাকে রান আউটের শিকারে পরিণত করে ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখেন। ম্যাচে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার ও নিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সিলেট পর্বের শেষ দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংস। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
ব্যাট করতে নেমে এদিন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চার ছয়ের ঝড় তুলেন লুক রঞ্চি।শুরু থেকে প্রতিপক্ষ দলের বোলারদেরকে পাড়ার বোলারে রূপান্তরিত করেন তিনি। মাত্র ১৯ বলে ৪ বাউন্ডারি ও পাঁচ ওভার বাউন্ডারিতে ফিফটি পূর্ণ করেন।তার ইনিংস এতটাই আক্রমণাত্বক ছিলেন যে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রানের মধ্যে অপর ওপেনার সৌম্য সরকারের অবদান ছিলো মাত্র ৭ রান। ৬ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটে ৬৯ রান সংগ্রহ করে চিটাগং ভাইকিংস।দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুনায়েরাকে (২০) সঙ্গে নিয়ে আরো ৪০ রান সংগ্রহ করেন লুক রঞ্চি। একটা সময় যখন মনে হচ্ছিলো চিটাগং ২০০ বেশী করবে তখনই নবম ওভারে পঞ্চম বলে লুক রঞ্চি ৩৫ বলে ৭চার ও ৭ ছক্কার সাহায্যে ৭৮ রান করে আউট হয়ে গেলে টিটাগংয়ের রানের চাকা থেমে যায়।৯ ওভার শেষে যখন ১০০ রান ছিলো তাদের শেষ ১১ ওভারে মাত্র তারা ৬৭ রান যোগ করতে পেরেছে। মিছবাহ ৩০ বলে ২৯ রান, এনামুল ১৬ বলে ১২ রান এমন ইনিংসের ফলে প্রতিপক্ষকে বড় টার্গেট দিতে পারেনি তারা। ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৬৬ বেশী করতে পারেনি।
রংপুরের হয়ে বোপার দুটি , এবং অধিনায়ক মাশরাফি ও পেরারা একটি করে উইকেট লাভ করেন।
১৬৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২০ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে রংপুর।এদিন স্পিনার দিয়ে চিটাগং তাদের বোলিং শুরু করে। সানজামুলের করা ইনিংসের তৃতীয় বলেই উইকেটের দেখা পায় তারা। জনসন চার্লসকে ব্যাক্তিগত ১রানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। অপর ওপেনার জিয়াউর রহমান ইনিংসের শুরু থেকে আগ্রাসী ছিলেন। তার ৪ বলের ইনিংসে বিশাল ছয়ের মারের সাথে একটি চারের মার ছিলো।দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে পেসার শুভাশিষকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে তানভিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন । এরপর দলের হাল ধরেন বোপারা ও মিথুন । দুজন মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২৬ বলে ৩৬ রান সংগ্রহ করেন। পাওয়ার প্লের শেষ বলে মিথুন (২৩) যখন আউট হয়ে ফিরেন তখন দলের সংগ্রহ ৩উইকেটে ৫৬ রান। এরপর বোপার ও শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটে রংপুর যখন সহজ জয়ের আশা দেখছিলো তখন ১৩তম ওভারে ম্যাচটা একপ্রকার ঘুরিয়ে দেন চিটাগংয়ের স্পিড স্টার তাসকিন। ১০৫ রানে তিন উইকেট থেকে ছয় উইকেটের দলে পরিণত করেন তিনি রংপুরকে । পরপর দুই বলে তিনি শাহরিয়ার নাফিস (২৬) ও শূণ্য রানে সলিমুল্লাকে ফিরিয়ে হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা জাগান । তবে পরবর্তী বলে চিটাগং ঠিকই উইকেটের দেখা পায় তবে সেটা রান আউট ছিলো । রবি বোপারাকে ৩৮ রানে রান আউটের শিকারে পরিণত করেন তাসকিন। শেষ দিকে পেরেরা ১১, মাশরাফি ১৩ ও মালিঙ্গা ১৪ রান করলে ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৫ রানের বেশী করতে পারেনি মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। ফলে ১১ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
চিটাগংয়ের হয়ে তাসকিন তিনটি, রাইস দুটি এবং সানজামুর ও শুভাশিষ একটি করে উইকেট লাভ করেন।

 

Share





Related News

Comments are Closed