ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করা হলো না দু’ভাইয়ের
সাহানুর রহমান, লালমনিরহাট থেকে: মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু বাড়িতে কোন টাকা নেই, তাই কলেজ পড়ুয়া দু’ভাই টাকা রোজগারের জন্য চলে গেলেন ঢাকার পোশাক কারখানায়, এক বছরের গচ্ছিত টাকা নিয়ে শুক্রবার সকালে মাকে ফোন করে বড় ছেলে আনোয়ার বলেছিলেন, মা তুমি চিন্তা কর না, তোমার চিকিৎসার টাকা সংগ্রহ হয়েছে, আমরা আসছি, মা পথ চেয়ে আছেন, আর রোগের যন্ত্রনায় কাতরিয়ে বলছেন, বাবারা কখন আসবে, কখন আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। আনোয়ার ও তার ছোট ভাই মহসিন শনিবার ফিরলেন তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে । শুধু তারা দু’ভাইই নয় কালিগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের ৮টি পরিবারের ১৭জন রংপুরের পীরগঞ্জে মমার্ন্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছে আরো ২৫জন।
এদিকে ভোররাত তিনটায় ফোন করে মাকে বললেন, আমি বগুড়া চলে এসেছি, সেহেরী করো, সকালে দেখা হচ্ছে মা। আমরা এক সাথে ইফতার করবো। বাড়ীর বড় মুরগীটা রান্না করেছেন তো । মায়ের সাথে সর্বশেষ কথা বলেন মজনু মিয়া।
শনিবার সকাল ১১টায় মজনুর গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামে তার বাবা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা হলে বাবা-ছেলের সর্বশেষ মোবাইলের কথন জানান তিনি।
মজনুর বাবা জানান, মজনুর দেশী মুরগীর মাংস বেশ পছন্দ। তাই ছেলে ছুটি পেয়েছে শুনে বাড়ির বড় মুরগীটা রান্না করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বাড়ি পৌছার কথা ছিল মজনুদের। কিন্তু যানজটের কারনে তাদের ট্রাকটি সেহরী করায় সিরাজগঞ্জে। বগুড়ায় পৌছে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয় বাবা ছেলের। ওই ট্রাকের যাত্রী ছিল মজনুর চাচাত বোন বন্যা (৮)। সেও মৃত্যুর মিছিলে সামিল হয়েছে মজনুর সাথে। আহত রয়েছে মজনুর চাচা ঝন্টু মিয়া, চাচি জামিনাসহ অনেকেই।
একই গ্রামের কোহিনুর ইসলাম (৪২) ছয় বছর ধরে ঢাকায় কাজ করেন। একমাত্র মেয়ে কুলসুমের বিয়ের সময় করা ঋন পরিশোধ করতেই ঢাকায় কাজ শুরু করেন এ দিনমজুর। সর্বশেষ রমজানে বাড়ি এসেছিলেন। আবারও চলে যান ঢাকায় ঈদের খরচ যোগাতে। বাসের টিকিট সোনার হরিন তাই মিলাতে ব্যর্থ হয়ে ঝুকি নিয়ে গ্রামের অন্যদের সাথে ট্রাকে উঠেন কোহিনুর ইসলাম। বাড়ি ফেরার সংবাদ একমাত্র ছেলে রুবেলের মোবাইলে জানান তিনি।
এ সড়ক দুর্ঘটনায় ওই ট্রাকের যাত্রী লতারব গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র সাদ্দাম (২২) ও আলমগীর(২০), সাদ্দামের শ্যালক ঘোংগাগাছ গ্রামের সৈয়দ আলীর পুত্র দেলোয়ার, একই গ্রামের মাজহারের পুত্র মনির (২০), উত্তর বত্রিশ হাজারি গ্রামের আশরাফুলের পুত্র সহিদুল (২৫)সহ কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার ১৭ জনের প্রানহানীর ঘটনায় পুরো এলাকায় বইছে শোকের মাতম। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো ২৫জন। ঈদের আগে এই মমার্ন্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু ওই পরিবারগুলোতেই নয় পুরো এলাকায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার পরিষদের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারদেরকে সাহায্য প্রদান করা হবে।
কালিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ শাহীনুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা ১২ জনের লাশ পেয়েছি, অপর ৫টি লাশ জেলার অন্য এলাকার, রংপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, আহতদের দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা এবং আগামী ২ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য দেওয়া হবে।
Related News
পঞ্চগড়ে পিকনিক খেয়ে বাড়ি ফেরা হলোনা ব্যবসায়ী বিপ্লবের
মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে ব্যবসায়ীক কাজ শেষেRead More
কুড়িগ্রামে পুকুরে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবেRead More



Comments are Closed