Main Menu

রংপুরে নিহত ১৫ জনের পরিচয় মিলেছে

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি নামক স্থানে যাত্রীবাহী ট্রাক উল্টে নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হতাহতরা সবাই পোশাক শ্রমিক বলে জানা গেছে।

শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর বত্রিশ হাজারি ছাপরহাট গ্রামের ঝন্টু মিয়ার মেয়ে সূবর্ণা (০৯), একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. কহিনুর মিয়া (৪০), আশরাফুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩০), জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (২৫), কালিগঞ্জ উপজেলার লতাবব গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আলমগীর (২৫), একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সাদ্দাম (২০)।

এছাড়া একই উপজেলার কংগাগঞ্জ গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে দেলোয়ার (২৮), মুনতাহার আলীর ছেলে মুনিব (২৫), বালাপাড়া গ্রামের শাহজামাল মিয়ার ছেলে মহসিন (২০), আদিতমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আজিজুর রহমান (২২), একই উপজেলার মহিমশিখা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে রবিউল (২২)।

এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নবাব সরকারের মেয়ে নাছিমা (২২), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার মীরগ্রামের মানিকুজ্জামান (৪০), একই গ্রামের আনিছুজ্জামানের মেয়ে ছামছুন্নাহার (৩০), ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বালুজুড়ী গ্রামের সিরাজের ছেলে জসিম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, ট্রাকের যাত্রীদের সবাই পোশাক শ্রমিক। তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন। কলাবাড়ি নামক স্থানে পৌঁছালে ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ১১ জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরো ৬ জন মারা যান।

ঘুমাচ্ছিল চালক, চালাচ্ছিল হেলপার

আহতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কিছুদুর আসার পর ট্রাকের চালক গাড়ীটি চালানোর জন্য হেলপারকে দিয়ে ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু ওই সময় হেলপারের চোখেও প্রচণ্ড ঘুম ছিল। হেলপার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ট্রাকটি চালাচ্ছিল। আর সেই কারণেই এ দুর্ঘটনা। লোকজন সিমেন্টের বস্তার নিচে পড়ে যাওয়ায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া শহিনুর ইসলাম জানান, তারা গাজীপুর থেকে সিমেন্ট ভর্তি এই ট্রাকে উঠেছিলেন। চালক রাতভর গাড়ি চালান। তিনি মাঝে মাঝেই ঝিমুচ্ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার আগে এসে চালক গাড়ি চালানোর জন্য ট্রাকের হেলপারকে দেন। হেলপার প্রথমে ভালোভাবে চালালেও পরে তিনিও ঝিমুনি শুরু করেন। দুর্ঘটনার সময় তারা ট্রাকের কেবিনে ছিলেন। এ কারণেই বেঁচে গেছেন।

আহতরা জানান তারা বাসের টিকিটি না পেয়ে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। নিহতদের পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় ওইসব এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

রংপুর হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বীরেন চন্দ্র মহাপাত্র বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই তৈরি পোশাক শ্রমিক ও রিক্সা চালক। ঈদে গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। নিহতদের বেশির ভাগের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বত্রিশ হাজারি গ্রামে। বেশির ভাগই ত্রিশোর্ধ্ব নারী-পুরুষ। তারা গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। চালকের ঝিমুনির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed