Main Menu

ধর্ষণের শাস্তি সাবালিকা হওয়ার পর বিয়ে!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : দুই সন্তানের জনক ধর্ষণ করলেন মাত্র নয় বছরের এক এতিম শিশুকে। সালিসে শাস্তি সাব্যস্ত হলো- শিশুটি বিবাহযোগ্য অর্থাৎ সাবালিকা হওয়ার পর তাকে বিয়ে করবে ধর্ষক ব্যক্তিটি। একই সঙ্গে তিন লাখ টাকা জরিমানাও করা হয় তাকে।

ধর্ষণের বিচারের নামে এই গোপন প্রহসন মঞ্চস্থ হয় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জে। এর মাধ্যমে ধর্ষণ ঘটনা ধামাচাপা দেয়া এবং জরিমানার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, নানাজনকে টাকা দিয়ে ঘটনা চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ ঘটনা পুলিশ জানলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তারা বলছে, এ নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি তারা।

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে মাঠে খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। অভিযুক্ত কাশেম একজন ছাগল বিক্রেতা। স্থানীয় কসাইপাড়ার এই বাসিন্দা দুই সন্তানের বাবা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনার দিনই শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন শিশুটি। তার শারীরিক অবস্থা এখন ভালো বলে জানান চিকিৎসক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে জানান, ধর্ষিতা শিশুটির বাবা ছিলেন একজন গাড়িচালক। কোনো অভিভাবক না থাকায় তার আত্মীয়স্বজন ও কিছু নামধারী সালিসদার গোপনে সালিস করেন। তারা এর মাধ্যমে জরিমানার নামে টাকা আত্মসাৎ ও মেয়েটি সাবালিকা হলে বিয়ের কথা বলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। সালিসকারীরা প্রভাবশালী বলে তাদের নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

শিশু ধর্ষণ কিংবা সালিসের বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ না পেলে আমাদের কিছুই করার নেই।’

Share





Related News

Comments are Closed