Main Menu

সাদা চাল রক্তে সর্করা বাড়ায় : ড. আবেদ চৌধুরী

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ভবিষ্যতে কালো চাল (বøাক রাইস) ও কালো টমেটো (বøাক টমেটো) বাজারজাত করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। এরই মধ্যে তিনি কালো জাতের চাল ও টমেটো আবিস্কার করেছেন। সেই সঙ্গে আবিস্কার করেছেন সোনালী চাল। যা মানব দেহের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ মার্চ) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন এই গবেষক। এরই মধ্যে তিনি কয়েক জাতের ধানও আবিস্কার করেছেন। আবিস্কার করেছেন স্বাস্থ্য উপকারী সিনার্জিকোলা নামে একটি কোমল পানিয়। তবে এগুলো এখনও বাজারজাত করা হয়নি।
ড. আবেদ চৌধুরীর চাওয়া মানুষের স্বাস্থ্য ভাল থাকুক। এই মানসিকতা থেকে উৎপাদন করেছেন নতুন জাতের ধান। তিনি বলেন, হার্ভাড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে সাদা চাল খাওয়ার কারণে মানব শরীরে রক্তে সর্করা বাড়ে। অথচ এমন একটি সময় ছিল, যখন মানুষ লাল চাল খেয়েছে। লাল চাল মানুষের স্বাস্থ উপযোগী ছিল।
তিনি বলেন, চালের আদি রং ছিল লাল। যেভাবে প্রকৃতি চেয়েছে। সমস্ত আউস ও আমনের চাল লাল ছিল। ষাটের দশকের পরে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত লাল চালকে মিলিং করে সাদা করার মাধ্যমে খাওয়া শুরু হলো। চালের ওপর থেকে পুষ্টিগত বা উপকারী যে আশ সেটা সরিয়ে দেওয়া হলো। তখন থেকে ডায়বেটিস মহামারি আকারে দেখা দেয়। কিডনী রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
প্রকৃতিগতভাবে ফসলে থাকা রং সরিয়ে দেওয়া হচেছ। এই রং মানুষের বয়সকে ধরে রাখতো। হৃদরোগ প্রতিরোধক ছিল। এখন এসব কারণে চল্লিশের কোটায় পৌছার আগেও মানুষ হৃদরোগাক্রান্ত হয়।
ড. আবেদ বলেন, এখন সমস্ত সাদা চালকে লাল করা যাবে না। তাই সাদা চালের সঙ্গে সুপার রাইস বা সোনালী চালের ২০ ভাগ সংমিশ্রন ঘটিয়ে রান্না করলে সর্করা ভাত খেলেও বাড়বে না। সোনালী চাল মেশালেও সাদা রংই থেকে যাবে। এর দামও থাকবে সহনীয় পর্যায়ে।
তার চেয়েও উৎপাদিত কালো রংয়ের চাল আরও ভাল। অতিশয় লাল হওয়ার পর কালো হয়ে যাওয়া এই চাল রান্না করলে আবার সোনালী রংসহ বিভিন্ন রং ধারণ করবে। তবে কালো চাল এখন বাজারজাত করা যাবে না কারণ এটা গবেষনার পর্যায়ে আছে বলেন তিনি।
এছাড়া কোনো ধরণের ক্যামিকেল ছাড়াই কালো জাতের টমেটো উৎপাদন করেছেন ড. আবেদ। এই টমেটোর রং স্ট্রীম বøু বা অতি বেগুনী। যেটা টমেটোতে দেখা যায় না। এটাও খুবই স্বাস্থ্য সম্মত।
ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, দেশের কোনো গবেষণা প্রতিষ্টানে কাজ করিনি। তবে নিজের ধারণা, এমন একটা পদ্ধতি বের করবো, নিয়ম সৃষ্টি করবো, গ্রামের লোকজন সেখানে কাজ করবে এবং গবেষনার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করবে। মূলকথা গবেষণার কাজটা গ্রামের মাঠেই হবে।
ড. আবেদের মতে, ‘আমরা সমস্ত কিছু গ্রামে করছি। সিলেটকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। গ্রামে কর্মসংস্থানের যোগাড় হবে। মানুষ কাজের জন্য শহরে আসে, এখন থেকে কাজের জন্য গ্রামে যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের চালটা কিনে খাবেন, তার মানে ভাল জিনিস পাচ্ছেন। পাশাপাশি আপনী সিলেটকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তাদের বলেছি, ‘তোমরাতো দারিদ্রতা বিমোচনের কথা বলো, এই প্রকল্পে সাপোর্ট দাও। এক কোটি না হয় ৫০ লাখ অথবা ২০ লাখ টাকা ঋণ দাও। তা দেবে না। এটা না করে বড় বড় মেশিন আসবে, কোনো ব্যবসা না করার আগে ১শ কোটি খরচ হয়ে যাবে। তাদের লোন দিচ্ছে ব্যাংক।
ড. আবেদ বলেন, একজন মানুষ নতুন একটা ইনোভেশন করবে। নতুন একটা কিছু করবে তাকে টাকা দেবে না। যাদের টাকা আছে, তাদের দেবে। যার আইডিয়া আছে, যারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চায়, তাকে সাহায্য দেবে না।
এবার সিলেট ফ্যাস্টিভ্যালে তার উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হোক। এজন্য সেখানে অংশগ্রহণ থাকবে তাঁর। কৃষিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান করতে আগ্রহী এই গবেষক। ভবিষ্যতে এই কোম্পানীর একটি অংশ তিনি দরিদ্রতা বিমোচনে কাজে লাগাবেন বলে আশাবাদি।
পুষ্টি ও স্বাস্থের অঙ্গিকার নিয়ে এইচকেজি এগ্রো নামে ড. আবেদ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে ৮০ বিঘা জমির মধ্যে নতুন জাতের ধান ও কালো টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ড. আবেদের প্রকল্পে কর্মরত সৈয়দ নূর আহমেদ সৌরভ, দেওয়ান গাজি সিরাজুল ইসলাম, আজওয়ার চৌধুরী, মেহেদী হাসান ও ফারহানা।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code