Main Menu

বরিশালে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ স্বামীর

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বরিশালের বাকেরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে নাদিরা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে মাদকবিরোধী অভিযানে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের দাবি, নাদিরা ইয়াবা গিলে ফেলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানে নাদিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা ও তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁর স্বামী এনামুল হক গাজী পালিয়ে যান বলে দাবি পুলিশের।

বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নাদিরাকে গ্রেপ্তারের আগে তিনি ইয়াবা গিলে ফেলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাকস্থলী পরিষ্কারের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি রাজি হননি। পরে আদালতে নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নাদিরার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

নাদিরার লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বামীর অভিযোগ, থানায় নিয়ে নির্যাতন;

Manual3 Ad Code

পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজী অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তাঁর বিরোধের একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার পরোয়ানায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে যায়।

Manual4 Ad Code

এনামুলের দাবি, তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সেলিমের পক্ষ হয়ে পুলিশ আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। থানায় তাঁকে খাবারও দিতে দেওয়া হয়নি। স্ত্রীকে মেরে ফেলে আমাকে থানায় ডেকেছে।’

Manual7 Ad Code

এনামুল আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের বাড়ি থেকে গরু বিক্রির এক লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা, সোনার চেইন, আংটি ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Manual7 Ad Code

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, এনামুল হক গাজী এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর করা মাদক কারবারিদের একটি তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে এর আগে কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তবে এনামুলের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় মাদকের মামলা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি ওসি।

ওসি বলেন, এনামুল প্রায় ২০ বছর ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদক কারবারে যুক্ত থাকলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code