Main Menu

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়নি

Manual7 Ad Code

আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বছরের প্রথম দিনে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ে এখনও সেসব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। এমন অভিযোগ করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নিন্ম ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারভিন আক্তার বলছেন, কয়েকটি বই বাদে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, সদর উপজেলার মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৩৭টি। এরমধ্যে নিন্ম ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৫২টি, মাদ্রাসা ৪৮টি, ইবতেদায়ী ২৫টি ও কারিগরি ১২টি। আর এসব বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩৬০ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলায় বই বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। তবে সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত বই বিতরণ শেষ হয়নি। বই না পাওয়ার কারণে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারছেন না। এতে করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।

সদর উপজেলার ভাউলারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পবারুর ইসলাম বলেন, ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আংশিক বই পেয়েছি; সম্পূর্ণ বই এখনো পায়নি। বই না পাওয়ায় লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

এছাড়াও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সময় মত অফিসে আসেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

পাটিয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম বলেন, সবগুলো বই না পাওয়ার কারণে আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে পারছিনা। তাই শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে।

Manual6 Ad Code

বৈরাগী হাট বালিকা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিরন চন্দ্র রায় বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির কৃষি, আনন্দপাঠ, শারীরিক শিক্ষা, ৭ম শ্রেণির ইংরেজি ২য়, ৮ম শ্রেণির ইসলাম ধর্ম বই এখন পর্যন্ত পায়নি।

পাটিয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুম মনির বলেন, বছরের প্রথম দিন বিদ্যালয়ে সকাল থেকে অবস্থান করে বই হাতে পাইনি। তারপর গত ১৩ জানুয়ারি ১৫টি বইয়ের মধ্যে ৭টি পেয়েছি। তবে বাকী ৮টি বই এখনো পায়নি।

একই কথা বলেন ইয়াকুব উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সিদ্ধাতুল মোনতাহাব লাবিব। তিনি বলেন, ২২টি বইয়ের মধ্যে ১০টি বই পেয়েছি; বাকিগুলো পায়নি।

সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আরা বেগম বলেন, বই রাখার জন্য আমাদের নিজস্ব কোন গোডাউন ঘর নেই। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি রুম আমরা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছি। আর এই ছোট্ট গোডাউন ঘরে সব বইগুলো রাখতে হয়। এজন্য বই খুজে বের করতে অনেক দেরি হয়। সে কারণে বই বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বই বিতরণে কোন তদারকি করেন না। তিনি এ বিষয়ে তদারকি করলে আমরা ১লা জানুয়ারির আগেই বই বিতরণ শেষ করতে পারতাম।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারভিন আক্তার বলেন, ঢাকা থেকে নতুন বই আসতে দেরি হয়েছে। এ কারণে বই বিতরণে সময় লাগছে। তবে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বই পৌছে দেয়া হবে।

Manual4 Ad Code

বই বিতরণে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ১লা জানুয়ারি বই দেয়ার সময আমি নিজেই উপস্থিত ছিলাম। এমনকি নিজ হাতে বই বিতরণ করেছি। এরপর থেকে আর কোন খোজ খবর নেয়া হয়নি।

অফিসে দেড়িতে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পঞ্চগড়ে আমার স্বামীর বাড়ি, এজন্য সেখানেত আমাকে যেতেই হবে। তাই সেখান থেকে এসে অফিসে যোগদান করতে একটু দেরি হলে কোন সমস্যা নেই।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহীন আকতার বলেন, আমি ঢাকায় আছি, রবিবারে ফিরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া সময় মত অফিস না আসার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অনেকবার বলা হয়েছে; এমনকি তাকে শোকজ সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code