Main Menu

আসামির স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরল এলাকাবাসী

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে মাদক মামলার আসামির বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে পড়েছেন মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। এ সময় এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

Manual3 Ad Code

সালথা থানাপুলিশের ওই এএসআই ইমরানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত এএসআই ইমরান রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবারের দাবি, এটি পরকীয়ার ঘটনা। এএসআই ইমরানের আটকের ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরানের গায়ে পুলিশের পোশাক নেই। প্যান্ট ও টিশার্ট পরা। তার মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা। মুখে রক্ত মাখা। গভীর রাতে নারীর ঘরে একা ঢুকে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে কোনো এক ব্যক্তি তার গায়ে আঘাত করছেন। তখন এএসআই ইমরানকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?’ পরে ইমরানের পকেট থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রির প্যাকেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ভিডিও ধারণকারী ওই ব্যক্তি।

Manual1 Ad Code

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পাশের বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঘনঘন যাওয়া আসা করতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে একা দেখা করতে গেলে এলাকার লোকজনের হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে সালথা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এএসআই ইমরান হাসানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে এএসআই ইমরান হাসানের দাবি তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখা জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

Manual4 Ad Code

মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এই সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপথোনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গভীর রাতে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন? এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওসি বলেন, কেন ওই এএসআই রাতের আঁধারে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code