আলুর কেজি ৪ টাকা!
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : লাভের আশায় আগাম জাতের আলু চাষ করেও লোকসান গুনছেন ঠাকুরগাঁয়ের চাষিরা। এখন প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩-৪ টাকা কেজি দরে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন আলু চাষিরা।
চলতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ২১ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এবং ২৩ হাজার ৪শ ১৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়।
বিশেষ করে সদর উপজেলার নারগুন, বেগুনবাড়ি, কহরপাড়া ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি, মধুপুরসহ ৫/৭টি গ্রামে আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়। আলুর আবাদও হয়েছে ভালো।
মওসুমের শুরুতে বাজারে প্রতিকেজি আলু ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়। ক্রমান্বয়ে আলুর দাম কমতে কমতে ১৫-২০ টাকায় পৌঁছায়।
এদিকে গত এক সপ্তাহ থেকে সে দাম আরো কমে গিয়ে ৩-৪ টাকায় এসে পৌঁছেছে।
নারগুন গ্রামের কৃষক সমির উদ্দীন জানান, তিনি এবার এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুইবিঘা জমিতে আলু আবাদ করেন। উৎপাদনও হয়েছে বেশ ভালো। কিন্তু আলু উৎপাদন দেরি হওয়ায় তিনি এখন মহাবিপদে পড়েছেন। আলুর দাম না থাকায় না ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না তিনি।
অপরদিকে বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার লাহিড়ী এলাকার আলু চাষি শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই বিঘার জমিতে আলুর ফলন হয়েছে বেশ ভালো। আলু চাষে মোট খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু আলুর দাম দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার টাকা। এমন অবস্থায় মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান দিচ্ছেন তিনি।
একই উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি গরিব চাষি। এবার আলু চাষে তেমন সুবিধা করতে পারিনি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামের মাহাফুজ আলম বলেন, প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে ৭-৮ টাকা। অথচ সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৩-৪ টাকা দরে।
জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জাহেরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার নারগুন, বেগুনবাড়ি সহ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি, মধুপুরসহ কয়েকটি গ্রামে আগাম জাতের আলুর চাষ হয়েছে বেশ। বাজারে দাম না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদন করচও তুলতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে জেলায় কৃষকদের আলু চাষের উৎসাহ কমে যাবে।
Related News
পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চফলনশীল লাউRead More
নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়
নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা।অনেকেRead More



Comments are Closed