ঠাকুরগাঁওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান
আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণি কক্ষের ভিতরের ছাদ, বারান্দা ও ভবনের চারপাশে বিশাল আকৃতির ফাটল। এছাড়াও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এই ঝুঁকিপুর্ণ ভবনে পাঠদান করায় বিপাকে পড়েছেন ঠাকুরগাঁও শহরে অবস্থিত সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ১৯৭৭ সালে শহরের টিকাপাড়া এলাকায় নির্মাণ করা হয় সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমান ওই বিদ্যালয়ে প্রায় ৮শ ৬৫ শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। বিদ্যালয়টির পাকা ভবনের ১৪টি কক্ষের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ১০টি এবং ৪টি শিক্ষকদের অফিস কক্ষ। ১৯৯৮ সালে ভবনে ফাটল শুরু হয়। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ভবনের সে ফাটল আরো বেড়ে গেছে। ভবনের দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল, আবার কোথাও কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এছাড়াও রড বেরিয়ে গেছে। বর্ষায় ফাটল দিয়ে পানি চুয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।
ওই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মারুফা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ঝুঁকিপুর্ণ ভবনে আমাদের ক্লাস করতে হয়। ক্লাস চলাকালিন অবস্থায় ভয় লাগে। বর্ষা মৌসুমে ক্লাস রুমের ছাদ চুয়ে পানি পড়ে।
৯ম শ্রেণির ছাত্রী আশা চক্রবর্তী বলেন, ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এমন বর্ষার সময় ছাদ চুয়ে পানি আমাদের বইয়ের উপর পরে। এতে আমাদের বইগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
৭ম শ্রেণির ছাত্রী আর্নিকা আক্তার বলেন, ভয়ে স্কুলে আসতে ইচ্ছে করেনা। না জানি কখন এই ভবন ভেঙে পড়ে। ভবন ভেঙে পড়লে অনেক শিক্ষার্থীল প্রাণহানি হতে পারে। তাই দ্রুত এই ভবন সংস্কারের প্রয়োজন।
অভিভাবক আব্দুলাহ হক দুলাল জানান, আমার মেয়ে তাসনিম আক্তার ৮ম শ্রেণিতে পরে। কিন্তু সে ভয়ে স্কুলে যেতে চায়না। তারপরও আমি জোড় করে তাকে স্কুলে পাঠাই। আমার সন্তান বাড়িয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত চিন্তায় থাকি। কারণ বিদ্যালয়ের ভবনগুলো খুবই ঝুকিপূর্ণ। আর এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিভাবক কুলসুম আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে খুব দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার করা প্রয়োজন। তাই সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপেন্দ্র নাথ ঝাঁ জানান, নির্মাণ কাজ মানসম্মত না হওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে ৮শ ৬৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ ঝুকিপুর্ণ ভবনটি পুনরায় নির্মাণের জন্য বিভিন্ন মহলে বলা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিল কুমার সে জানান, ভবনটি সংস্কারের জন্য কয়েক দফা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন অর্থ বরাদ্দ আসেনি।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহীন আখতার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটির বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশ এলেই খুব দ্রুত এই ভবনটি সংস্কার করা হবে।
Related News
ফল খেয়ে ১৪ শিশু অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি ৯
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খেলার সময় কাঠবাদাম ভেবে অজানা গাছের ফল খেয়ে বিভিন্নRead More
গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, জনতার হাতে আটক স্বামী
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রী দুলালি বেগম (৫৫) কে ছুরিকাঘাত করেRead More



Comments are Closed