জৈন্তাপুরে ‘বাঘ আতঙ্ক’, নিখোঁজ ৩ গরুর মরদেহ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীপুর চা-বাগান ও আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় বন্য প্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়া তিনটি গরুর মরদেহ পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গরুগুলোর শরীরে গভীর আঁচড় ও কামড়ের চিহ্ন পাওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা, কোনো হিংস্র বন্য প্রাণীর আক্রমণেই সেগুলোর মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি চিতাবাঘ বা অন্য কোনো প্রাণীর আক্রমণ কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান, গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গরু শ্রীপুর চা-বাগান, জামটিলা ও খড়মপুড়টিলাসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় চারণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্তীর্ণ ওই এলাকায় জনবসতি কম থাকায় গবাদিপশু অবাধে বিচরণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে আশুরার দিন হারিকুস্ত এলাকার একটি বড় গরু নিখোঁজ হয়। পরদিন জামটিলা এলাকায় গরুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গরুটির শরীরে গভীর আঁচড়, গলায় কামড়ের দাগ এবং পেটের নরম অংশ খাওয়া অবস্থায় ছিল।
এর কয়েক দিনের ব্যবধানে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলী ও আলেক মিয়ার আরও দুটি গরু নিখোঁজ হয়। পরদিন খড়মপুড়টিলা এলাকায় একই ধরনের ক্ষতচিহ্নসহ গরু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি শিয়াল ও একটি কুকুরের মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর গলায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, ছোট আকারের কোনো বন্য প্রাণীর পক্ষে পূর্ণবয়স্ক গরু শিকার করা সম্ভব নয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ধরনের তিনটি ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক খামারি ও গরুর মালিক এখন গবাদিপশু চরাতে নিয়ে যেতে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জৈন্তাপুর সারী রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহ আলম ইসলাম জানান, সোমবার (৬ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃত গরুগুলোর শরীরের ক্ষতচিহ্নের ছবি ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে কোন প্রাণীর আক্রমণে গরুগুলোর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শ্রীপুর চা-বাগান ও মেঘালয় সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে শিয়াল, বনবিড়াল ও মেছো বিড়ালের বিচরণ থাকলেও এসব প্রাণীর পক্ষে একটি পূর্ণবয়স্ক গরু হত্যা করা সম্ভব নয়। অতীতে ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে চিতাবাঘের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন কোনো চিতাবাঘ সীমান্ত অতিক্রম করে এ এলাকায় প্রবেশ করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং গবাদিপশু চারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ।
Related News
জৈন্তাপুরে ‘বাঘ আতঙ্ক’, নিখোঁজ ৩ গরুর মরদেহ উদ্ধার
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীপুর চা-বাগান ও আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায়Read More
জকিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিরশ্রী ইউনিয়নের আখাকল্যাণ গ্রামে মাহিনা বেগমRead More



Comments are Closed