Main Menu

সিলেটে সাজনা হত্যা মামলা সিআইডিতে

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটে চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা সাজনা হত্যা মামলা এখন সিআইডিতে। সিআইডি সিলেট জোনের ইন্সপেক্টর আব্দুল হাদী মামলাটি তদন্ত করছেন।
শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে তিনি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর আগে মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত করেন এসএমপির জালালাবাদ থানার সাব ইন্সপেক্টর বিকাশ চক্রবর্তী ও সিলেট মেট্রোডিবির ইন্সপেক্টর নূরুল আলম।
সূত্রে প্রকাশ, এ বছরের ২২ জুন রমজানের রাতে স্বামীর বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানার দিঘলবাক নোয়াগাঁওয়ে খুন হয় মুক্তিযোদ্ধা কন্যা সাজনা বেগম। স্বামী লিয়াকত আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা রাতের আঁধারে পিঠিয়ে নির্মমভাবে খুন করে সাজনাকে। দেড়বছরের কন্যা সন্তানের জননী সাজনা বেগম (২৩) জালালাবাদ থানার পূরাণ কালারুকা গ্রমের বীর মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলীর মেয়ে।
অভিযোগে প্রকাশ, বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ নানা কারনে দাম্পত্যকলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বেদানা নামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর প্রেমে পড়ে যায় স্বামী লিয়াকত। ওই নারীকে বিয়ে করতে বারবার তার উপর চালাতে থাকে অবর্ননীয় নির্যাতন। সহ্য করতে না পেরে সাজনা কয়েকবার তার পিত্রালয়ে গিয়ে আটকে থাকলে স্থানীয় মাতব্বরদের আশ্বাসে সে বারবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যায়। ঘটনার প্রায় ১৫দিন আগেও সাজনা পিত্রালয়ে আটকে থাকলে স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে স্বামীর বাড়ি ফিরে। এর পরই গত ২২ জুন তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘাতক স্বামী ও তার স্বজনরা থানা পুলিশের সাথে আঁতাত করে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়। অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল লিপিবদ্ধ না করে কয়েকটি সাদা কগজে সাজনার স্বজনসহ কয়েকজনের স্বাক্ষর নিয়ে গোপনে সুরতহাল লিখে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরন করে। পাশাপশি সাজনার বোন নেহার বেগম স্বাক্ষরিত সাদা কাগজে একটি ইউডি মামলা লিখে নেয়। ময়না তদন্ত ও দাফনের পর সাজনার বোন নেহার বেগম থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। উপরন্তু যোগাযোগীমূলে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করে ইউডি মামলাটির নিষ্পত্তি করে ফেলে। থানায় মামলা না নেয়ায় ২৯ জুন নেহার বেগম সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতে নালিশা মামলা (নং-১২০) করেন। দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত গত ৫ অক্টোবর মামলা নিয়ে ওসি জালালাবাদ থানাকে নির্দেশ দিলে গত ১৪ অক্টোবর থানায় হত্যা মামলা{নং-০৬(১০)১৬} রুজু করা হয়। কিন্তু এর আগের দিনই ১৩ অক্টোবর ঘাতক স্বামী লিয়াকত তার সম্পর্কের নারী বেদানাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে এনে নতুন করে সংসার শুরু করে।
মুক্তিযোদ্ধা কন্যা সাজনা হত্যা মামলার আসামীরা হচ্ছে, সিলেটের জালালাবাদ থানার দিঘলবাক নোয়াগাঁওয়ের রইছ আলীর পুত্র সাজনার স্বামী লিয়াকত আলী, লিয়াকত আলীর ভাই শওকত আলী ও হাবিবুর, পিতা রইছ আলী ও লিয়াকতের মাতা জমিলা বেগম। আদালতের নির্দেশনা মতে মামলাটি বিশেষ ইউনিটের তদন্তে ন্যাস্ত করার কথা থাকলেও থানা ও ডিবি পুলিশ হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সিআইডি সিলেট জোনের কাছে ন্যাস্ত করা হয়। শনিবার প্রথম বারের মত সরেজমিন তদন্তে যান তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি সিলেট জোনের ইন্সপেক্টর আব্দুল হাদী। তিনি সরেজমির ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উপস্তিতদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এদিকে মামলার পর থেকে সাজনার প্রভাবশালী ঘাতকরা গ্রেফতার এড়িয়ে বাদী নেহার বেগমকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে চলেছে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Share





Related News

Comments are Closed