Main Menu

চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে তিনজনকে হত্যা, আদালতে বাবুলের স্বীকারোক্তি

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ধরা পড়ার ভয়ে তিনজনকে একাই হত্যা করেছে বাবুল মিয়া। পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

আদালতে বাবুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা আসামির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, জবানবন্দিতে বাবুল মিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

Manual3 Ad Code

জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।’

এদিন বেলা ১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরের সুবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে বাবুল মিয়াকে আদালতে নেওয়া হয়।

সেখানে সন্ধ্যা ৬টার আগ পর্যন্ত সময় নিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বাবুল মিয়াকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার খাস কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Manual8 Ad Code

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির আরও বলেন, রিমান্ডে তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে আদালতে জানিয়েছে, গৃহকর্মীর সাথে প্রেমসংক্রান্ত বিষয়টি পুলিশের কাছে নাকি ভয়ে স্বীকার করেছে। তবে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় গিয়েছিল। ধরা পড়ার ভয়ে একাই তিনজনকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

Manual1 Ad Code

এছাড়া আদালতে জবানবন্দিতেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরবর্তীতে প্রেস ব্রিফিং করে সবকিছু খোলাসা করা হবে।

Manual4 Ad Code

এদিন অনেকটা গোপনে আদালতে হাজির করার বিষয়ে তিনি বলেন, রিমান্ড আবেদনে হাজিরের দিন মব হওয়ার মতো অবস্থা ছিল। তাই কঠোর পুলিশি পাহারায় গোপনে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় খুন হন ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)। বাসা থেকে তাদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, বাবুল কাজের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে তাকে খুন করে। এসময় বাসার কাজের মেয়ের আর্তচিৎকারে গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও খুন করে সে। কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অনেকের ধারণা, বাবুলকে ব্যবহার করা হয়েছে। নেপথ্যে অন্য কুশীলবদের খোঁজে বের করার দাবি জানান। এই ঘটনায় নিহতদের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে ওই মামলায় বাবুল মিয়াকে আসামি দেখানো হয়নি। তারা ওই ঘটনায় জমিসংক্রান্ত ইস্যুতে খুন হতে পারেন। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।

পরবর্তীতে গত রোববার (১৬ আগস্ট) বাবুল মিয়ার চারদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন অত্র আদালতের বিচারক। ওই দিন পুলিশ বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code