মাধবপুরে কনক জাতের টমেটো চাষীদের মাথায় হাত
আবুল হোসেন সবুজ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে: হবিগঞ্জের মাধবপুরের টমেটো চাষীরা চলতি বছর কনক জাতের টমেটোর চাষ করে লোকসানে পরেছে। উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক টমেটো চাষী প্রতিবছর অন্য জাতের টমেটোর চাষ করলেও এবছর তারা এগ্রিকনসার্ন লিমিটেড এর কনক জাতের টমেটো চাষ করেন। কিন্তু টমেটো গাছ মাথা সমান উচু হলেও গাছে কোন ফলন না থাকায় চাষীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। চাষীরা জানান তারা শ্রাবন মাসে বীজতলায় টমেটোর বীজবপন করেন। পরে ভাদ্র মাসে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপন করা হয়। এসময় জমিতে জল থাকায় বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে চারা রোপন করতে হয়। ফলে প্রতি কানি জমিতে (৪০শতক) টমেটো চাষে কৃষকদের খরচ পড়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ভাল ফলন হলে এক কানি জমিতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রি হয়। চাষিরা জানান অন্যান্য বছর অন্যান্য জাতের টমেটো চাষ করে কৃষকরা অক্টোবর-নভেম্বর মাসের এ সময়ে কানি ক্ষেতে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রি করে থাকেন। এবছর তারা কনক জাতের টমেটো চাষ করে এখন পর্যন্ত এক টাকার টমেটোও বিক্রি করতে পারেননি। এখন পর্যন্ত ক্ষেতে কোন ফলন আসেনি। ফলে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা। এবছর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কৃষক গাজিপুর গ্রামের মোবারক মিয়া ৮০ শতক, শিপন মিয়া ৩০ শতক, আব্দুল আউয়াল ৩০ শতক, মিন্টু মিয়া ৪০ শতক, ফুল মিয়া ২০ শতক, সফিক মিয়া ২০ শতক, কাদির মিয়া ২০ শতক, সফিক মিয়া ৩০ শতক, নাজমুল ৩০ শতক, সফিকুল ইসলাম ৪০ শতক, রাজনগর গ্রামের রতন মিয়া ২০ শতক, বাদশা মিয়া ৪০ শতক, রইচ আলী ৪০ শতক, কালিকৃষ্ণনগর গ্রামের আবু তালেব ৬০ শতক, আব্দল আউয়াল ২৫ শতক, ফজলুল করিম ৩০ শতক, আবুল কাশেম ৩০ শতক, জুয়েল মিয়া ২০ শতক, কমলানগর গ্রামের নজরুল ইসলাম ১ একর ২০ শতক, আব্দল কাদির ৪০ শতক, আব্দুল হাকিম ২৫ শতক, জসিম উদ্দিন ৩০ শতক সহ এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষক এ জাতের টমেটো চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। তারা জানান এগ্রিকনসার্ন লিমিটেড এর কনক জাতের টমেটো বীজ ডিলার এয়াকুব আলীর নিকট থেকে বীজ এনে তারা এবছর মার খেয়েছেন। ডিলার এয়াকুব আলীর জানান সে নিজেও এবছর ১০ কানি জমিতে কনক চাষ করে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। তার জমিতেও কোন ফলন নাই। তিনি আরো জানান ইতিমধ্যে কোম্পানির ম্যানেজার মাঠ পরিদর্শন করে গেছেন এবং ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকের তালিকা করে পাটাতে বলেছেন।
এব্যপারে মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান বীজের মান ভাল না হওয়ায় গাছে ফল আসেনি। এ গাছে আশানুরুপ ফলনের কোন লক্ষন নেই।
Related News
পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চফলনশীল লাউRead More
নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়
নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা।অনেকেRead More



Comments are Closed