Main Menu

দেড়শ’ টন চিনি বেশি দামে বিক্রি

রাজশাহী থেকে হাবিব জুয়েল : নিয়ম না মেনে প্রায় দেড়শ’ টন চিনি অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি করে দিয়েছে, রাজশাহী সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামের ১৪ জন ডিলারের নামে এই চিনি বিক্রি হয়েছে। এজন্য চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন থেকে কোনো অনুমতিই নেয়া হয়নি। ভূয়া বরাদ্দ দেখিয়ে প্রভাবশালীরা এই চিনি বিক্রি করে দিয়ে মুনাফা লুটেছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশেই এই অনিয়ম হয়েছে বলে এসএটিভি’র অনুসন্ধানে স্বীকারও করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তালিকাভুক্ত ডিলারদের বাইরে সুগার মিলের চিনি বিক্রির কোনো নিয়মই নেই। কিন্তু রাজশাহী সুগার মিলে এই বিধি মানা হয়নি। গেল রমজান মাসে একশো ৪০টন চিনি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের কোনো অনুমোদনও নেয়া হয়নি। ডিলারদের অভিযোগ, ওই সময় ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, তারাও চিনি পাননি।
চট্টগ্রামের নাম-ঠিকানা দিয়ে তোলা হলেও, কঠোর গোপনীয়তায় এসব চিনি চলে গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে।

চট্টগ্রামের ঠিকানায় কাগজ জমা দেয়া ডিলাররা হলেন :
১. রুহুল চৌধুরী এন্ড কোং, ৫৫০ স্ট্যাণ্ড রোড
২. আল আমানত এজেন্সি, ১১৩/৪ আমির মার্কেট, খাতুনগঞ্জ
৩. আবুল বাশার এন্ড সন্স, ৩৫ নতুন চাক্তাই
৪. ইসলাম ট্রেডার্স, ৪০ অলি মিয়া রোড
৫. হাজি সৈয়দ আহমেদ চৌধুরী, ৩৫নং বস্তির হাট
৬. জেবি এন্টারপ্রাইজ, ২৪৮ খাতুনগঞ্জ
৭. জামাল এন্ড ব্রাদার্স, গোলতাজ মার্কেট, খাতুনগঞ্জ
৮. আনোয়ারা বেগম, ১৫ লালখান বাজার
৯. আহাদ আলী খান, ৭৫ লালখান বাজার
১০. মোহন রানী চৌধুরী, ১০ চাক্তাই
১১. কাজল করিম খান, ২৬৪ খাতুনগঞ্জ
১২. নুরুল এন্ড ব্রাদার্স, ৩০১ পাহাড়তলী
১৩. ইদ্রিস ব্রাদার্স, ১৫ বশিরহাট
১৪. আরেকজন ডিলারের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

বৈধ ব্যবসায়ী না হয়েও, একাই ৮০ টন চিনি তুলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আহমেদ জুয়েল। তার দাবি, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন, তাই সুগার মিল কর্তৃপক্ষ তাকে চিনি দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তবে অবৈধ উপায়ে এ চিনি পেতে তাকে দিতে হয়েছে ঘুষ। বাকিরাও মিলের গুদাম থেকে চিনি তুলেছেন একইপথে।কিন্তু এবিষয়ে কোনো তথ্যই দিতে রাজি নন, প্রতিষ্ঠানটির মহা-ব্যবস্থাপক। তবে রহস্যের জট খোলে সুগার মিলের খোদ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মুখেই। তিনি জানান, চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন থেকে একটি ইমেইল বার্তা পাওয়ার পরই তিনি ১৪০ টন চিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এজন্য নিজের দায়ও স্বীকারও করেন।

বর্তমানে রাজশাহী সুগার মিলের গুদামে অবিক্রিত চিনি রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টন। গত কয়েক বছর ধরেই পড়ে আছে এসব চিনি।

Share





Related News

Comments are Closed