Main Menu

রাজশাহীতে এ কোন সৌদি..?

হাবিব জুয়েল : রাজশাহীতে সৌদির নাম শুনেনি এমন ব্যক্তি মেলা ভার। না ভাই, আমি সৌদি আরবের কথা বলছি না। আমি বলছি রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বরেন্দ্র প্রতিদিনের সেই সৌদির কথা। যারা এই পত্রিকা অফিসটিতে গেছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন, একটি দৈনিক পত্রিকার মেক-আপ, গেট-আপ, ডিজাইন, এডিটিং করেন এই ছোট্ট মেয়ে সৌদি। মাত্র ৯ বছর বয়সেই সৌদি রপ্ত করেছে সংবাদপত্র শিল্পকে।

আর এই শিল্পের অন্যতম কারিগর হচ্ছেন দৈনিক বরেন্দ্র প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও সৌদির বাবা শাহীন আক্তার। পত্রিকা বের করার এক পর্যায়ে শাহীন দেখেন কম্পিউটার অপারেটর পাওয়া খুব দুরহ, তাই নিজে অনেক সময় পত্রিকা বের করতে হিমশিম খেতেন। কিন্তু শুধু মাত্র কম্পিউটার অপারেটরকে দেখেই সৌদি রপ্ত করেছে সংবাদপত্র শিল্পকে। সেই সাথে আয়ত্ব করেছে পুরো কম্পিউটারকে। কোনোদিন যদি কোনো রিপোর্টার, বার্তা সম্পাদক কিংবা সাংবাদিক না আসেন তবে অনলাইন থেকে মেইল নামিয়ে পত্রিকা বের করার কাজটিও সেরে ফেলেন এই সৌদি। শুধু তাই না ট্রেসিং রেডি করে তুলে দেন প্রেসের হাতে। আর পরের দিন সকালেই পাঠকের হাতে পৌঁছে যায় এই দৈনিক পত্রিকাটি।

তার হাতের ছোট আঙুল দিয়ে না দেখে এত স্পিডে টাইপ করতে পারে যে বিশ্বাস করাই কঠিন। টাইপিং তার কাছে খুব সাধারণ একটি বিষয়। এরই মধ্যে উইন্ডোজ এক্সপি, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এডোবি ফটোশপ, ফ্ল্যাশ প্রভৃতিতে বেশ পারদর্শী হয়ে গেছে। এমএস ওয়ার্ডের ফাইল তৈরি, টেক্সট ডিজাইন, পিকচার অ্যাড, গ্রাফ ও টেবিল ওয়ার্ক, এক্সেল দিয়ে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ, পাওয়ার পয়েন্ট দিয়ে পিকচার মুভিং অ্যানিমেশন, স্লাইড শো, সাউন্ড ও মিউজিক অ্যাডের কাজ তার কাছে কয়েক মিনিটের ব্যাপার মাত্র। ফটোশপে যেকোনো ছবি এডিট করতে পারে স্বাচ্ছন্দ্যে।

তবে, অনেক বাবাই স্বপ্ন দেখেন তার ছেলে বা মেয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল কিংবা ব্যাংকার হবে। কিন্তু চিত্রটা এখানে একটু ভিন্ন । বর্তমানে সৌদির বাবা শাহীন আক্তার স্বপ্ন দেখেন তার মেয়ে একদিন জগৎ জোড়া সাংবাদিক হবে, সেই সাথে অন্ধকার থেকে জাতিকে নিয়ে আসবে আলোতে…। সৌদির বাবা শাহীন আরো বলেন- আমার ইচ্ছা ছিলো না সাংবাদিক হবার কিন্তু আমি ব্যবসায়ীই থাকতে চাই তবে সৌদির অদম্য স্পৃহা ওকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে।

আজ সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সৌদির জন্মদিন, আর আমাদের আশা থাকবে বাংলার প্রতিটি ঘরে যেন সৌদির মতো মেয়ে জন্মায় আর শাহীন আক্তারের মতো বাবা। তবেই না দেশ জাতি তথা সমগ্র সমাজে নারীরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। আর তার পরেও কি সমাজ বলবে- মেয়েরা সমাজের বোঝা স্বরূপ…?

Share





Related News

Comments are Closed