Main Menu

স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ে পাট চাষীরা

আব্দুল আওয়াল, ঠাকুরগাঁও থেকে: বিভিন্ন ফসলে লোকসান গুনতে গুনতে চাষিরা যখন ক্লান্ত ঠিক এই সময়ে বাড়তি ফসল হিসেবে সোনালী আঁশ পাটকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁট চাষিরা।
চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে পাট কাটা, জাগ দেয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষাণ-কৃষাণীরা। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে রয়েছে হাসির ঝিলিক। কিন্তু দাম নিয়ে রয়েছে সংসয়।

ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছে কৃষকরা। চাষীরা পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানোসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।

আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। অনেক স্থানে কৃষকের খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেও কৃষকদের তাতে আগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য, এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৯শ’ ১০ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৫শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে। কৃষক যদি পাট ১৫শ থেকে ১৮শ টাকা মণ দরে বিক্রি করে তাহলে লাভবান হবে। এমন ন্যায্য মূল্য পেলে কৃষকরা আরো বেশি পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

Thakurgaon Jute Pic-4ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আঁক্চা ইউনিয়নের কৃষক মজিবর আলী জানান, ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি পাটও ভালো হয়েছে এবং অন্য বছরের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তায় আছি।

ঠাকুরগাঁও খোঁচাবাড়ি এলাকার পাট চাষী নজরুল ইসলাম জানান, পাটের বর্তমান বাজারে কৃষকের লাভ হচ্ছে। তিনি বলেন এবছর প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। আর প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।

সদর উপজেলা বেগুন বাড়ি এলাকার কৃষক সামাদ আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে দু:শ্চিন্তায় ছিলাম, তবে পরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। এবার আমি ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। বাজারে পাটের মূল্য নিয়ে সংসয়ে আছি। যদি সরকার পাটের ভাল মূল্য নির্ধারণ করে তাহলে আর্থিক ভাবে কিছু লাভবান হব। আগামী বছর আরো বেশি জমিতে পাট চাষ করবো বলে ভেবেছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আরশেদ আলী খান জানান, এবার গত বছরের তুলনায় এ জেলায় পাটের আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। এলাকার কৃষকরা যাতে পাট যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল পাট উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের কাছে গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে পাটকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমাণ ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শও দিয়েছি। পাটের নায্য মূল্য পেলে চাষীদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। এ জেলায় যদি পাট ভিত্তিক কোন শিল্প কারখানা গড়ে উঠতো তাহলে কৃষকরা আরো ভাল দাম পেত।

Share





Related News

Comments are Closed