যুবতী নারীকে দিয়ে চিকিৎসা, অতপর…
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কবিরাজের ধর্ষণের শিকার হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে এক কলেজ ছাত্রী।
তার নাম নুরজাহান আক্তার মলি (২০)। সে মানিকগঞ্জের শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও শিবালয় উপজেলার দশচিড়া এলাকার আবদুল গফুরের মেয়ে।
বড় ভাইয়ের কবিরাজ চিকিৎসকের ধর্ষণের শিকার হয়ে এই ঘটনা কাউকে না জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী গত রবিবার (৩১ জুলাই) রাতে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
আর ওই কবিরাজ পার্শ্ববর্তী গহেরপুর এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে পাগাল ফকির (৬৫)।
ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
মলির বড় ভাই আবদুল কাদের মনু জানান, তিনি মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে অর্থনীতিতে মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই কবিরাজ তাকে বাড়ি এসে চিকিৎসা করতেন।
চিকিৎসার সময় সুস্থবোধ করলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে যেতেন।
গত সপ্তাহে ওই কবিরাজ বলেন, তাকে কেউ বান (যাদু-টোনা) দিয়েছেন। এই বান কাটতে হলে বংশের যুবতী নারীকে দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে।
বংশের যুবতী মেয়ে একমাত্র ওই মলি। মলিকেই ওই কবিরাজের সঙ্গে চিকিৎসা করতে সম্মতি দেয়া হয়।
গত শনিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে এসে দুয়ারে আসন সাঁজান ওই কবিরাজ। এরপর মলি ছাড়া বাড়ির সকলকে ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকতে বলেন তিনি।
কবিরাজের কথা মতো সবাই ঘরে গেলে এক ফাঁকে মলিকে নিয়ে ওই কবিরাজ অন্য আরেকটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দুই ঘণ্টা পর মলিকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
আসনের মাটির কলসের পানি মাথায় ঢেলে তাকে (মনু) চিকিৎসা করে ওই কবিরাজ চলে যান। এরপর থেকে মলি মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের কাউকে কিছু না বলে পরের দিন এখানে-সেখানে বসে খুব ভাবনা-চিন্তা ও অন্য মনস্ক হয়ে থাকতো।
ওই দিন (রবিবার) রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে সে। রাত তিনটার দিকে পাশের ঘরে গিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় মলি।
সোমবার (১ আগস্ট) সকালে বাড়ির লোকজন ঘরের ভেতর ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
আবদুল গফুর অভিযোগ করেন, ‘ওই কবিরাজ মনুকে অপচিকিৎসা করে অসুস্থ করে রেখেছে। আর আমাদের সরলতার সুযোগে ওইদিন ঘরের ভেতর নিয়ে মলিকে ধর্ষণ করেন ওই কবিরাজ। ধর্ষণের শিকার হয়ে লোক-লজ্জায় ও মান-সম্মানের ভয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলো মেয়েটি। আমরা ওই কবিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় মলির বাবা থানায় মামলা করেছেন। কবিরাজ পাগালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
Related News
শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্নRead More
আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ প্রায় দুই হাজার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে শিশু হত্যা ও নিখোঁজ সংক্রান্ত অপরাধমূলক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজেরRead More



Comments are Closed