Main Menu

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী লাখো মানুষ

তৌহিদুল ইসলাম,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বাড়ী ঘরে ফের পানি ওঠেছে। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
তিস্তা ও ধরলার পানি জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রামে প্রবেশ করেছে। পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে সোমবার রাতে সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামে ধরলা নদীর ফ্লাড বাইপাস ভেঙ্গে ৩টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় জেলায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

LMH_Flood_Pk_2পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা, জগতবেড়, ধবলসুতী, পানবাড়ী, বেংকান্দা, হাতীবান্দা উপজেলার বড়খাতা, সানিয়াজান, সিন্দুর্ণা, ভোটমারী, ডাউয়াবাড়ী, বেজগ্রাম, পারুলিয়া, কালিগঞ্জ উপজেলার চর ভোটমারী, আমিনগঞ্জ, বৈরাতী, শৈলমারী, আদিতমারী উপজেলার মহিষ খোঁচা, গোবর্ধন, চন্ডিমারী, ভাদাই, ভেলাবাড়ী, দূর্গাপুর, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট, রাজপুর, খুনিয়াগাছ, মোগলহাট, তিস্তা, গোকুন্ডা সহ দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ বন্যা কবলিত।

বন্যা উপদ্রত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: আহসান আলী বাবু’র নের্তৃত্বে বন্যা দূর্গত এলাকায় ১৪টি মেডিকেল টীম সেবা চালিয়ে যাচ্ছে। এসময় তারা পানিবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করছে। এসময় দূর্গত মানুষদের খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র প্রদান করছে।

পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে দুই হাজার হেক্টর জমির বীজতলা, রোপা আমন ধান, কলা বাগান, সবজি ও ভূট্টা ক্ষেত। তাছাড়াও পাঁচ শতাধিক পুকুর, মাছের ঘের ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ১০ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

LMH_Flood_Pk_3জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিশ আলী জানান, এবারের বন্যায় জেলায় ২৮ হাজার ৬শ’ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে সরকারীভাবে ৪শ মেট্রিক টন চাল ও ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে পানি বন্দি এলাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বন্যার্তরা। ঘরে পানি ওঠায় লোকজন রাস্তায়, উচুঁ জায়গায় রাত্রি যাপন করছে। জায়গার অভাবে মানুষ ও গবাদিপশু একই জায়গায় রাত্রি যাপন করছে। তবে অনেক বন্যার্ত মানুষ ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। রান্নার কোন উপায় না থাকায় অনেকেই শুকনা মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

Share





Related News

Comments are Closed