সৎ ও যোগ্য প্রাথীকে ভোট দেয়া ইসলামের নির্দেশ
এহসান বিন মুজাহির: আাগামি ২৮ মে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ম ধাপে ইউপি নির্বচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান যুগে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য ভোট অন্যতম একটি মাধ্যম। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি শুধু ভোটদাতার সঙ্গে নয়, পুরো জাতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত। জনগণের ন্যায্য অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আদর্শবান, সৎ ও খোদাভীরুর হাতে ক্ষমতা অর্পণ করার লক্ষ্যে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রত্যেক ভোটারের নৈতিক দায়িত্ব। প্রার্থী সৎ, যোগ্য, আদর্শবান না হলেও তাকে ভোট দেয়া আর তার ব্যাপারে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে সত্যায়ন করা একই কথা। কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভালো, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি প্রার্থী হলে তাকে ভোট না দিয়ে বিরত থাকা এবং অসৎ ও অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা ধর্মীয় দৃষ্টিতেও বড় গোনাহ। সৎ প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও সৎ ইসলামী মুল্যবোধে বিশ্বাসী প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে, নতুবা আমানতের খিয়ানত হবে। তবে কারও ভোটের কারণে যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যান, এতে পরবর্তীকালে তিনি যা যা ভালো কাজ করবেন তার সওয়াব ভোটদাতাও পাবেন। আর যদি কারও একটি ভোটের কারণে ক্ষমতা রাষ্ট্রের ক্ষমতা কোন পাপিষ্ঠের হাতে চলে যায়, তার কারণে ইসলাম হয় ভূলুন্ঠিত, জনগণ অধিকার থেকে হয় বঞ্চিত, তাহলে ঐ ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার কারণে হাশরের কঠিন মুহূর্তে মহান আল্লাহর কাছে ভোটদাতাকে কঠিন জবাব দিতে হবে। তাই এসব নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটারদের অংশ গ্রহণ করা ঈমানী দায়িত্ব। ভোট বিশেষ একটি আমানত। ভোটের ব্যাপারটি শুধুমাত্র পার্থিব নয়; পরকালেও এ ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ভোট সাধারণ কোন ব্যাপার নয়। ভোট দেয়া মানে সাক্ষ্য প্রদান ও সত্যায়ন করা। কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো তার ব্যাপারে এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা যে, তিনি সৎ ও যোগ্য। ইসলাম ও দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা এবং জনগণের অধিকার আদায়ে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রার্থী সম্পর্কে জানা-শুনার পরেও অসৎ ব্যক্তিকে ভোট বা সাক্ষ্য দেয়ার কারণে নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে যত অসৎ কর্মকাÐ সম্পাদন করবে সেই পাপের অংশে ভোটাররাও শরীক হবে।
এ প্রসঙ্গে কোরআন কারীমে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “যে লোক সৎকাজের জন্য কোন সাক্ষ্য দিবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার পাপের একটি অংশ পাবে’। (সূরা নিসা: ৮৫)
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; এবং ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তদাপিও’। (সূরা নিসা: ১৩৫)
রাব্বুল আলামিন আরও ইরশাদ করেন,“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অটল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের আক্রোশের কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না’। (সূরা মায়েদা: ৮)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কালামে পাকে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, যাবতীয় আমানত তার উপযুক্ত লোকদের নিকট অর্পণ করো’। (সূরা-নিসা-৫৮৩) আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইনসাফের সঙ্গে আল্লাহর জন্য সাক্ষী হয়ে দাঁড়াও’। -সূরা নিসা : ১৩৫
মহান রাব্বুল আলামিন আরও ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা জেনে শুনে আল্ল¬াহ ও তার রাসূলের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ কেেরা না এবং নিজেদের আমানতের খিয়ানত করো না’। (সূরা-আনফাল-২৭)
যোগ্যতার মানদন্ডে প্রার্থী হবার যোগ্য নয়, ফাসিক, অসৎ ব্যক্তি যিনি দলীয়ভাবে লবিং অথবা আর্থিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনে পদপ্রার্থী হয়েছেন এমন প্রতিদ্ব›িদ্বকারী ব্যক্তিকে ভোট দেয়া হারাম। এ প্রসঙ্গে আল্ল¬াহ বলেন, “তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাক”। (সূরা হজ্জ্ব: ৩০)
রাসুল (সা:) উম্মতকে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা থেকে সতর্ক করেছেন। রাসূল (সা:) বলেন, “সাবধান! মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ”। (-বুখারি শরীফ)
হযরত আয়মান বিন আখরাম (রা:) বলেন, একদিন নবীজী (সা:) খুতবায় দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল! মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া আর আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা একই রকম”। (তিরমিজি শরীফ-২২৯৯)
হযরত আনাস (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন, রাসূল (সা:) একবার কবীরা গোনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি উত্তরে বললেন, “আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। (বুখারি: ২৫১০)
আর যেসব ভোটারগণ প্রার্থীদের যথাযোগ্যতা যাচাই-বাছাই না করে স্বজনপ্রীতিমূলক, সাময়িক সম্পর্ক, সস্তা প্রতিশ্রæতি ও ঘুষ খেয়ে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে থাকেন তারা আমানতের খিয়ানত করার জন্য হাশরের মাঠে এর কঠিন জবাব দিতে হবে। বর্তমানে নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি ও বিভিন্ন প্রতিশ্রæতির বিনিময়ে অনেক প্রার্থী ভোট কালেকশন করেন, যা সম্পূর্ণ হারাম। যে সমস্ত পদ প্রার্থীরা ভোটারদেরকে আপ্যায়নের নামে বিভিন্নভাবে ঘুষ দিয়ে নিজেদের পক্ষে ভোট সংগ্রহ করে ঘুষতন্ত্র চালু করেছেন সেটা ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপ।
লেখক: যুগ্ন আহবায়ক, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব ও নির্বাহী সভাপতি, সৃজনঘর সাহিত্য ফোরাম মৌলভীবাজার।
Related News
মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
Manual6 Ad Code হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ”Read More
মাদকে ধ্বংস হচ্ছে দেশের মেধা সম্পদ
Manual1 Ad Code মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান: ‘মাদক’ ভয়াবহ এক মরণ নেশার নাম। এর কারণেRead More



Comments are Closed