একজন সাংসদ কি পাঁচ জন মন্ত্রীর চেয়েও প্রভাবশালী?
গোলাম সাদত জুয়েল : লিখব না লিখব দ্বীধাদ্বন্ধে ছিলাম, জাফর ইকবালের লেখার পর শাবির ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের পর কেন লিখব ?
কিন্তু লিখতে বসলাম এ কারনে,পাচজন মন্ত্রীর ঘোষনার পর সরকার কে চালায় দেখার জন্য । আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পরারষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী পাচজন সেরা মন্ত্রী শিক্ষকের পক্ষ নেবার পর কি হবে তা দেখছিলাম। সরকার কে চালায় । প্রধানমন্ত্রী বুলগেরিয়ায় আমাদের কি উনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। শেখ হাসিনা কি বিদেশে থেকে এ ঘটনায় বিব্রত হবেন। হায়রে বাংলাদেশ ? একজন শিক্ষক যিনি কিনা ১৮ বছর তার প্রতিষ্টানকে তিল তিল করে টিনের ঘর থেকে অট্রালিকায় পরিনত করতে পেরেছেন । তার শ্রম ও মেধা এর মুল্য এ ভাবে দিতে হবে কে জানত । যদি কারও যোগ্যতা না থাকে সে প্রধান শিক্ষক হতে পারে না। সে মুসলিম হোক আর হিন্দু হোক। একটি মিথ্যা অপবাদে তাকে অপমানিত হতে হল, মিথ্যার কাছে সত্য জয়ী হয়ে যাচেছ । প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কত দ্রুত তদন্ত করতে পারে তারপরও আমাদের দেশের প্রশাসন কতটা সেকেলে । সারা দেশের মানুষ জেনে গেছে ঘটনা কি ঘটেছিল, একজন সম্মানিত শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির অন্যায় আবদার না রাখায় কি সুকৌশলে ধর্মিয় অনুভুতির অপবাদ দিয়ে তার প্রতিষ্টানে তাকে অপদস্ত করা হল । হায়রে জাতি । আমাদের আরও অনেক কিছু দেখতে হবে। সেলিম ওসমানের মত ১৮ বছর পুর্বে যদি গার্মেন্টস ব্যবসায় প্রধান শিক্ষক প্রবেশ করতেন তাহলে ব্যাংকের টাকা লোন নিয়ে চুরি করে ৪/৫ টা গার্মেন্টস দিতে পারতেন । অনেক টাকার মালিক হতে পারতেন, নারায়নগঞ্জে তা সম্ভব ছিল । তিনি মানুষ বানাবার কারিগড়, মনন মেধা বিকাশের তাগিদে শিক্ষকতা শুরু করলেন । টিন শেডের আদলে শিক্ষা প্রতিষ্টান আজ বিরাট অট্রালিকা হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ শিক্ষাথীরা দেশ বিদেশে । অথচ মানেজিং কমিটি নামক একটি কমিটি যেটি সব শিক্ষা প্রতিষ্টানে আছে তারা প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে শিক্ষাপ্রতিষ্টানে দুর্নীীত করে। শ্যামল কান্তি প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকরা সব সময় কড়া হয়ে থাকেন। তাদের সব সময় কঠোর ও কড়া থাকতে হয় এডমিনিষ্টেশন চালাবার জন্য। তার অপবাদ এ মাত্র । কোন কিছুতে সুবিধা করতে না পেরে হিন্দু ভদ্রলোক প্রধান শিক্ষক কে একটি পরিকল্পিত নাটক সাজাল ম্যানেজিং কমিটি, যাতে ফেসে গেলেন তিনি। নারায়নগঞ্জের কলংক ওসমান পরিবারের নতুন সংস্করন সেলিম ওসমান যে কান্ডটা করলেন তাতে সারা দেশ স্তম্ভিত । তার মত লোকের কাছে কি আর আশা করা যায়।
দ্বিতীয় ঘটনাটা ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক শ্যামল কে সাময়িক বহিস্কার করলেন । জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও নাামের সরকারী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসক বলে কিছু আাছে কিনা আমার জানা নেই । আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সবশেষ সিলেটে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনু শিক্ষক অবমাননা মেনে নেয়া হবে না বলার পরও কি হবে দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী । নাকি প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বা ঢাকা বিমান বন্দরে নামার পর কোন ঘোষনা দিবেন এ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও কোন টু শব্দ শোনা যাচেছ না। রওশন এরশাদ নামের একজন পৌড় রাজনীতিবিদ যাকে আবার বিরোধী দলীয় নেত্রী বলা হয়ে থাকে তিনি বেচে আছেন না মরে গেছেন! জাতি জানতে চায়।
হায়রে শিক্ষক সমাজ, সারা বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ কেন চুপ। সবাই তামাশা দেখছে । শিক্ষকরা রাস্তায় নেমে আসলে সেলিম ওসমান এর বিচার হত, আর ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষকদের অপদস্ত করার সাহস করত না।
শিক্ষক সমাজ আমাদের অহংকার। তাদের প্রতি কোন অনুকম্পা নয়, নৈতিক দায়িত্ব শিক্ষকদের সম্মান করা। একজন শিক্ষক যখন আহাজারি করে বলে, আমার যে টুকু সম্মান ছিল তা নেই- আমি মৃত। তখন প্রবাসে বসেও তার জন্য চোখের পানি ফেলা ছাড়া আমাদের কি আছে। হিন্দু মুসলিম সহ অবস্তানে ৪৫ বছর থেকে বাস করছেন, ভাই ভাই হিসাবে। ইতিহাস বলে কোন হিন্দু মুসলিমদের অপমান করে না, ঠিক তেমনি মুসলিমরাও হিন্দুদের অপমান করে না । তা করতে পারে না। যা হয়ে থাকে ইদানিং প্রতিমা ভাংচুর, হিন্দুদের বাড়ী ঘর ভাংচুর, আবার হযরত মোহাম্দদ (স.)কে অপমান হিন্দুদের দ্বারা সবই পরিকল্পিত রাজনৈতিক। বাংলাদেশে দুটো সম্প্রদায়ের সহ অবস্তান যুগ যুগ ধরে। শ্যামল কান্তির মত একজন বিচক্ষন ও সুশিক্ষিত প্রধান শিক্ষক কখনও ধর্মিয় অনুভুতিতে আঘাত দিতে পারেন না । সব সাজানো, সারা বাংলাদেশকে কয়েক লক্ষ অসাধু ব্যবসায়ী, অসাধু রাজনীতিবিদ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা, অসাধু শিক্ষক সমাজ , অসাধু বাংকাররা , অসাধু প্রশাসন কানে ধরে ওঠবস করাচেছ । আমরা ১৬ কোটি মানুষ তাদের গোলচক্করে ঘোরপাক খাচিছ । শুধু সেলিম ওসমান নয় যারা ওখানে উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে মাফ চাইতে হবে।
স্বসম্মানে তিনি তার প্রাপ্য মর্যাদায় তার প্রতিষ্টানে ফিরে আসবেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ভেংগে দিতে হবে। তার জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি । আর সেলিম ওসমান নামের প্রতি থাকবে আজীবন ঘৃনা।
লেখক: সাংবাদিক-কলামিষ্ট (আমেরিকা প্রবাসী)।
Related News
আমিরাতে প্রবাসী সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন
Manual1 Ad Code প্রবাস ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন “প্রবাসী সাংবাদিক সমিতিRead More
হবিগঞ্জের জেলা পরিষদের প্রশাসক আটক
Manual7 Ad Code প্রবাস ডেস্ক: হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্পাদকRead More



Comments are Closed